যে ৫ উপায়ে করোনামুক্ত নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডে গর্বিত প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন

নিউজিল্যান্ডে বর্তমানে কোনও কোভিড-১৯ রোগী নেই। গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশটিতে নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি। ফলে গত সোমবার (৮ জুন) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত দ্রুত সংক্রমিতদের সুস্থ করার পাশাপাশি সংক্রমণ বন্ধও করল কিভাবে ছোট এই দ্বীপদেশটি? দেশটির সাফল্যের পিছনে রয়েছে মূলত পাঁচটি কারণ৷ চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সেসব কারণ:

১.দ্রুত লকডাউন

গত ১৫ মার্চ ১০০ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লেও নিউজিল্যান্ডে তখনও এ রোগে কেউ মারা যায়নি৷ ২৫ মার্চ সীমান্ত বন্ধ করে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেদিন জাসিন্ডা আরডের্ন বলেছিলেন, ‘শুরু থেকেই কঠোর হতে হবে আমাদের।’ তারপর লম্বা সময় ফার্মেসি, মুদির দোকান, হাসপাতাল আর গ্যাস স্টেশন ছাড়া সব বন্ধ রাখা হয়৷ করোনামুক্ত হওয়ার পরও সীমান্ত বন্ধ রেখেছে দেশটি৷

২.দিনে আট হাজার পরীক্ষা

এক সময় দিনে আট হাজার করে মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ এভাবে মোট দুই লাখ ৯৫ হাজার মানুষের করোনা টেস্ট করানো হয়েছে মাত্র ৫০ লাখ মানুষের দেশটিতে৷

৩.সবাইকে আস্থায় নেয়া

লকডাউন কার্যকর হয়েছে সঠিক পরিকল্পনার কারণে৷ লকডাউন ঘোষণার পরই সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব মানুষের কাছে একটি এসএমএস পাঠানো হয়৷ এসএমএসে লেখা ছিল, ‘এই বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের সবার জন্য৷ আমরা আপনার ওপর নির্ভরশীল৷ রাতে আপনি যেখানে আছেন, পরবর্তী ঘোষণার আগ পর্যন্ত সেখানেই থাকতে হবে আপনাকে৷’

৪.ভৌগলিক অবস্থানের সুবিধা

দ্বীপদেশ হওয়ায় সীমান্ত বন্ধ করা সহজ হয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষে৷ বাইরে থেকে কেউ আসতে পারেনি৷ ফলে নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো সহজে সম্ভব হয়েছে৷

৫.গাইডলাইন মেনে চলা

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের স্কুল অব ফার্মাসির সিনিয়র শিক্ষক ওকসানা পাইসিক বলেন, ‘যে কোনো মহামারির বিরুদ্ধে সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমে খুঁজে বের করা, তারপর টেস্ট করা, আইসোলেট করা, প্রত্যেক রোগীর বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা, সংক্রমণ ধরা পড়লে প্রত্যেককে কোয়ারান্টিনে পাঠানো- এইসব নিয়ম মানতে হবে৷ সব দেশের জন্য কোভিড-১৯ থেকে রক্ষার এটাই সেরা উপায়৷ এটা মেনেই নিউজিল্যান্ড সফল হয়েছে৷’

ডয়েচেভেলে অবলম্বনে

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/

লাইক, কমেন্টস, শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন