ধারাবাহিক উপন্যাস স্বপ্নজাল-পাঁচ

গ্রেগোয়ার দোলাকু

অনুবাদ: মাহমুদা আকতার

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পাঁচ
দশ বছর বয়সে আমি যখন মাধ্যমিক স্কুলের নিচের ক্লাসে পড়তাম তখন ফাবিয়েন দেরোমকে চুমু খাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার। আমি নই, ওর ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছিল জুলিয়েট বোকে। যখন আমি তের বছরের কিশোরী তখন ক্লাস পার্টিতে নেচেছিলাম। নাচার সময় মনে মনে চাইছিলাম আমার নাচের সঙ্গীটি যেন আমার কদম ফুলের মত ছোট্ট নতুন স্তন দুটিতে হাত রাখে। কিন্তু ওর সেই সাহস হয়নি। নাচ শেষ হওয়ার পর কি নিয়ে যেন ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি করছিল।
তের বছরের জন্মদিনে আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম আমার মা যেন রাস্তা থেকে ওঠে দাঁড়ায় যেখানে সে হঠাৎ করে পিছলে পড়েছিল। পড়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে সে চিৎকার করতে চেয়েছিল। মুখটি কেবল খুলতে পেরেছিল। কিন্তু চিৎকারটি আর কান্না হয়ে বের হওয়ার সুযোগ পায়নি। গোটা ঘটনাটি মিথ্যা হয়ে যাক সারাক্ষণ এই স্বপ্নই দেখেছিলাম আমি। আমি আরও চাইছিলাম তার দুই পায়ের মাঝখানে যেন কোন ভিজে রাস্তা না থাকে। ওই বয়সে আমি আরও স্বপ্ন দেখতাম আমার মা মারা যাননি, বেঁচে আছেন। একদিন তিনি আমাকে আমার বিয়ের পোশাক পছন্দ করতে সাহায্য করবেন। বিয়ের দিন আমার হাতের ফুলের তোড়াটা কেমন হবে এবং কেকের স্বাদ ও রংটা কেমন হবে সে বিষয়েও পরামর্শ দেবেন তিনি। বিশ বছর বয়সে আমি ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। চেয়েছিলাম প্যারিসে গিয়ে নামী কোনো ফ্যাশন স্কুলে ভর্তি হব। কিন্তু ততদিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আমার বাবা। তাই প্যারিসে যাওয়ার বদলে কাজ নিলাম মাদাম পিলারের কাপড়ের দোকানে। ওই সময় আমি হলিউড তারকা জনি ডেপ আর কেভিন কস্টনারের প্রেমে পড়েছিলাম। ওদের সঙ্গে দেখা করারও স্বপ্ন দেখছিলাম। এর বদলে জোসলিন গুয়েরবেতের সঙ্গে দেখা হল। সে আমাদের দোকানে এসেছিল নিজের মায়ের জন্য কিছু একটা কিনতে। সে কিনতে এসেছিল বার ইঞ্চি চওড়া ভ্যালেন্সিয়েনের লেইস। আর একটি ভবিন লেইস। দোকানের কর্মচারী হিসেবে আমিই তাকে বিভিন্ন লেইস দেখাচ্ছিলাম। তখনই ঘটল সেই অলৌকিক ঘটনাটি। সে বলল, ‘তুমি তো অদ্ভুত মেয়ে।’ ব্যাস এতেই আমার মুখে রং ধরল। হৃদপিণ্ড নাচতে শুরু করল। এরপর সে হাসল।

আসলে পুরুষরা ভালো করেই জানে, কোন শব্দগুলো বললে মেয়েদের হৃদয়ে দোলা লাগবে। আর আমরা মেয়েরা হলাম মারাত্মক রকমের নির্বোধ। ছেলেদের দু একটা কথা শুনেই মন্ত্রমুগ্ধভাবে তাদের বিছানো জালে আটকা পড়ি এবং আপ্লুত হই। এবং সবশেষে নিজেদের জন্য একজন পুরুষ যোগাড় করতে সক্ষম হই আমরা। অবশ্যই আমিও এর ব্যতিক্রম নই। দোকান বন্ধ করার পর জো আমাকে কফি খাওয়ার প্রস্তাব দিল। আমি তো তখন এটুকুতেই বিয়ে নিয়ে একশ একটা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। শুধু কি তাই! ততক্ষণে আমি তো বাগদান থেকে শুরু করে বিমানে করে নির্জন দ্বীপে মধুচন্দ্রিমা পর্যন্ত সেরে ফেলেছি। এটা যেন আর্কেডের কোনো ছোট্ট কফিশপ নয়। আমার স্বপ্নে তো তখন ককটেল পার্টি, সাদা মাছ আর জেসমিন উড়ছে।

অন্যদিকে জোয়ের উদ্ভট শব্দাবলী আর তেল মাখানো প্রবাদ বাক্যগুলো তো কেবল মিথ্যার পর মিথ্যাই বলে চলেছে। ফলে ওই সন্ধ্যায় জোসেলাইন গুয়েরবেতে যখন আমাকে চুমু খেলো তখন আমি পুরোপুরি ওর দখলে চলে গেছি। পরদিন দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ও চলে গেল। আমিও আমার হৃদয়টা খুলে দিলাম। আর আমার স্বপ্নগুলো আমাকে ছেড়ে উড়ে চলে গেল অনেক দূরে।

চলবে…

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/