অসহায় বৃদ্ধকে ঘর দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন যে দুই যুবক

মোঃ মমতাজ আলী শান্ত (বামে) ও মোঃ ইয়াছিন আলী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

মোঃ মমতাজ আলী শান্ত ও মোঃ ইয়াছিন আলী। লালমনিরহাটের কালীঞ্জ উপজেলার কাকিনা চাঁপারতল গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম তাদের। দু'জনে তারুণ্যের প্রতীক। যুব সমাজের অহংকার। সম্প্রতি সময়ে করোনাকালে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবেও কাজ করেছে। এর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে উঠে আসে অসহায় এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক গৌরদাসের করুণ কাহিনী। বিষয়টি সকলের নজরেও আসলেও কেউ পাশে দাড়ায়নি গৌরদাসের। কিন্ত থেমে থাকেননি মমতাজ ও ইয়াছিন।

অসহায় বৃদ্ধ গৌরদাসকে করে দিয়েছেন একটি স্থায়ী ঘর-বর্তমানে যেখানে বসবাস করছেন ওই বৃদ্ধ। আর এভাবেই মানবতার সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই দুই তরুণ উদ্যেক্তা। যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য একটি শিক্ষনীয় বিষয়।

করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সারাদেশেই সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল নানা উৎকণ্ঠা আর সংশয়। এ নিয়ে আতঙ্ক কিছু কম ছিলোনা গ্রাম অঞ্চলের মানুষেরও! ছিল পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে দিন কাটানোর ভয়। এমন পরিস্থিতিতে এই দুর্যোগময় অবস্থায় কাকিনার মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে এই দুই তরুণ উদ্যেক্তা। কাকিনার অসহায় দরিদ্রদের খাবার বিতরণ করে। পাশপাশি জীবানুনাশক বিতড়ন করেছে গ্রামের বিভিন্ন লোকজনকে।

গত কয়েকদিন আগে লালমনিরহাটের কাকিনা চাঁপারতল এলাকার বৃদ্ধ ভিক্ষুক গৌরদাসের করুন কাহিনী দেখে আর থেমে থাকতে পারেনি মো.মমতাজ আলী শান্ত ও ইয়াছিন আলী। ওই বৃদ্ধ ৩০ বছর ধরে ঝুঁপড়িতে বসবাস করতো। স্ত্রী-সন্তান কেউ নেই তার। সীমাহীন কষ্ট ছিল তার। বৃষ্টির দিনে ঝুঁপড়িতে থাকা দুষ্কর হয়ে যেত। তাই তাকে একটি থাকার উপযোগী ঘর বানিয়ে দেন ওই দুই যুবক। এখন বাকি জীবনটা ভালো ভাবে কাটাতে পারবেন ওই বৃদ্ধ।

তরুণ উদ্যেক্তা মোঃ মমতাজ আলী শান্ত জানান, আমি কাকিনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। মানব সেবাই বড় ইবাদত। গরীবের অর্তনাদ দেখে থেমে থাকতে পারিনা। আমি আরামে থাকবো আমার এলাকার মানুষ না খেয়ে থাকবে এটা হবে না। সকল অসহায় মানুষের পাশে দাড়াব ইনশাল্লাহ। সকলে আমাকে দোয়া ও সহযোগিতা করবেন আমি যাতে আগামীতে এলাকার জন্য ভালো কিছু করতে পারি। এলাকার উন্নয়নে আমি কাজ করে যাবো।

মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ ইয়াছিন আলী বলেন, আমি এখন যেমন গরীব দুঃখী মানুষের পাশে আছি, আগামীতেও থাকবো। আপনারা আমার পাশে থাকবেন। আমি যেন নির্বাচিত হয়ে আপনাদের পাশে থাকতে পারি। এ রকম অনেক গৌরদাস আছে তারা আজ অবহেলিত। তাদের পাশে থেকে যেন কাজ করতে পারি এটাই আমার প্রত্যাশা। একজন মানবিক জন প্রতিনিধি হতে চাই।

তাদের এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বলেন, মোঃ মমতাজ আলী শান্ত ও ইয়াছিন আলী গৌরদাসকে ঘর করে দিয়ে মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। প্রত্যেক অসহায় মানুষের খোঁজ যদি এভাবে সবাই নিত তাহলে সমাজে অসহায় মানুষে খুঁজে পাওয়া যেত না।

এই দুই তরুণ উদ্যেক্তার কাজ গ্রামের সকলের কাছে প্রসংসিত হয়েছে। আগামীতে তারা ভালো কিছু করবে এ প্রত্যাশা সংস্লিষ্ট মহলের।

গৌরদাস বলেন, ‘মেম্বার চেয়ারম্যান ভোটের সময় আসে, পরে আর খোঁজ রাখে না। মমতাজ ও ইয়াছিন আমাকে থাকার মত ঘর দিয়েছেন। আর ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হবে না আমাকে। আর দুঃখ নেই। অনেক কষ্টে কাটাইছি ৩০টি বছর। কত লাঞ্চনা-বঞ্চনার স্বীকার হয়েছি। এক বেলা খাইছি -আর এক বেলা নাই। কত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি কেউ কোন সহযোগিতা করে নাই। অথচ তারা আমাকে তারা ঘর দিয়েছেন। আমি জীবনভর দোয়া করবো তাদের জন্য। তারা যেন আমার মত অসহায় মানুষের সেবা করতে পারেন।’

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/