অস্কারের মঞ্চে এশিয়ান নারী ক্লো ঝাওয়ের নতুন ইতিহাস

চীনা বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র পরিচালক ক্লো ঝাও রোববার (২৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত একাডেমি পুরস্কাfরের আসরে প্রথম এশিয়ান নারী হিসাবে শ্রেষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালকের গৌরব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় নারী যিনি এই সম্মানজনক পুরস্কার জিতলেন। এর আগে মাত্র একজন নারী অস্কার আসরে সেরা পরিচালকের পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। ক্লো ঝাও পর্দায় সুনিপুনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মন্দা-যুগের নোম্যাডল্যান্ড’য়ের (যাযাবরদের) গল্প  বলে এই পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন। সূত্র-আল জাজিরা

৩৯ বছর বয়সী ঝাওয়ের এটি প্রথম অস্কার জয়। তার ছবিতে অভিনেত্রী ফ্রান্সেস ম্যাকডরমান্ড বাস্তব জীবনের এইসব যাযাবরদের চিত্রিত করেছেন, যেসব বয়স্ক আমেরিকানরা জীবনধারণের জন্য এক চাকরিথেকে আরেক চাকরির পথে ছুটে বেড়ায়। ফলে তাদের জীবনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে না।

নোম্যাডল্যান্ডে ক্লোয়ি ঝাও ষাটোর্ধ্ব এক বিধবা নারীর জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। চাকরি হারানোর পর একজন নারী কীভাবে একটি ভ্যানকে সম্বল করে জীবনযুদ্ধে বিজয়ী  হন সেটিই ফুটিয়ে তুলেছেন এই নারী পরিচালক। পরিচালনার পাশাপাশি এই ছবির গল্প লেখা, নির্দেশনা ও প্রযোজনার দায়িত্বও সামলেছেন ক্লোয়ি ঝাও।

অস্কারের ট্রফিটি হাতে তুলে স্বাভাবিকেভাবেই উচ্ছ্বসিত তিনি। মঞ্চ থেকেই নোম্যাডল্যান্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কলাকুশলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অস্কার বিজয়ী পরিচালক।

ঝাও জন্মগ্রহণ করেছেন চীনে। লন্ডনের বোর্ডিং স্কুলে যাওয়ার আগে অর্থাৎ ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বেইজিংয়েই থাকতেন তিনি। পরে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান এবং সেখানে তিনি হাই স্কুল শেষ করেন এবং তারপরে নিউ ইয়র্কের ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন।

যদিও চীনা বংশোদ্ভুত এই নারীর এতবড় সাফল্যের চিত্র স্বচোখে দেখতে পারছেন না চীনের লোকজন। কেননা এবারের অস্কার প্রতিযোগিতায় হংকংয়ে ২০১৯ সালের বিক্ষোভের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্টারি অংশ নিচ্ছে। ফলে অস্কার পুরস্কার বিতরণের এই অনুষ্ঠানটি এই বছর চীন বা হংকংয়ে প্রচারিত হচ্ছে না।

এবারের অস্কারের আসরে সবমিলিয়ে ৩টি পুরস্কার ঘরে তুলেছে নোম্যাডল্যান্ড;  সেরা পরিচালক হিসাবে ক্লো ঝাও, সেরা অভিনেত্রী ফ্রান্সেস ম্যাকডরমান্ড এবং সেরা ছবি হিসাবেও পুরস্কার জিতেছে এই ছবি।

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/