যে মাছ বেচে রাতারাতি কোটিপতি এক জেলে

ঘোল মাছ

কথায় বলে- ‘আল্লাহ যারে দেয়/ছাপ্পড় ফাইড়া দেয়।’ আর এই প্রবাদটি যেন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে এক জেলের জীবনে।  সাগরে জাল ফেলে মাত্র দেড়শ’টি মাছ তুলেছিলেন তিনি। এতেই রাতারাতি বদলে গেছে তার ভাগ্য। মাত্র এক রাতের ব্যবধানে কোটিপতি বনে গেছেন ওই জেলে। এর সুফল পেয়েছেন তার আট সহকর্মীও। এই বিরল ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে।

ওই রাজ্যের পালঘর জেলার মুরবে গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত তারে। গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় দলবল নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান তিনি। ওইদিনই সবে সাগরে মৎস্য শিকারের ওপর থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। তাই দেরি না করেই নৌকা আর জাল নিয়ে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়েন চন্দ্রকান্ত তারে। কিন্তু জাল উঠাতে গিয়ে দেখেন এটি মাছের ভারে খুব ভারী হয়ে গেছেন। সহকর্মীদের সহায়তায় জাল তুলে তো তার চক্ষু চরকগাছ! কেননা তার জালে ধরা পড়েছে দুর্মূল্য ঘোল মাছ। তাও একটি বা দুটি নয়, সবমিলিয়ে ১৫০টি। আর এই মাছই রাতারাতি বদলে দিয়েছে  চন্দ্রকান্ত তারে এবং তার সহকর্মীদের জীবন।

মাছ নিয়ে দ্রুত ডাঙায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর পালঘরের মুরবে এলাকায় নিলামে তোলা হয় ওই মাছগুলি। মাত্র ১৫০টি মাছ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। দুর্মূল্য এই মাছগুলো কিনেছেন উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের ধণাঢ্য ব্যবসায়ীরা।

ঘোল মাছ ‘সি গোল্ড’ বা ‘সোনালি হৃদয়ের মাছ’ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্রোটোনিবিয়া ডায়াকানথুস’।  ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের কালো দাগযুক্ত ক্রোকার জাতের এই মাছগুলো সবচেয়ে দামি সামুদ্রিক মাছ হিসাবে বিবেচিত।

এই মাছ কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়-এর প্রত্যেকটি অংশ ওষুধ, প্রসাধন এবং দেহের সঙ্গে মিশে যাওয়া সেলাইয়ের সুতো-সহ বিভিন্ন জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে হংকং, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানে এই মাছের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দূষণের কারণে এই মাছ ক্রমশই দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

সূত্র- এনডিটিভি

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/