মুক্তিযুদ্ধ ও নারী

হোমায়রা খাতুন

হোমায়রা হুমা

মুক্তিযুদ্ধ আমার জন্মসনদ। যে জন্মসনদ লেখা হয়েছে তিন লক্ষ নারী ও সাত লক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মবলিদান এবং গাজীমর্যাদায়;  নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যাদের নাম ইতিহাসে আজো লিপিবদ্ধ হয়নি, তাদের হৃদয়ক্ষরণের পবিত্র রক্তভেজা কালিতে। আমি তাদের মহান আত্মবলিদানের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

২৫মার্চ কালো রাত্রীতে 'অপারেশন সার্চ লাইট' বাস্তবায়নে মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর ওপর পাকবাহিনী হামলে পড়েছিল এবং ব্যাপক গণহত্যাযজ্ঞ চলেছিল পুরো নয় মাস জুড়ে। এই নয় মাস নারীদের ওপর চলেছিল ভয়াবহ বিভৎস শারীরিক নির্যাতন, পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর যৌণ নির্যাতনের ভয়াবহতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসি বাহিনীকেও হার মানিয়েছে।

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌণ নির্যাতন সহ্য করাসহ মুক্তিযুদ্ধে নারীদের নিরঙ্কুশ স্বপ্রতিভ উজ্জ্বল, আন্তরিক অংশগ্রহন, ভূমিকা ও অবদান ছিল প্রকাশ্য ও দৃশ্যমান । মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নারীরা সংগ্রাম করেছেন দেশের ভেতর প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর কাছাকাছি থেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন, শরাণার্থী শিবিরে পরিজনদের নিয়ে বেঁচে  থাকার চেষ্টা করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে লড়াই করেছেন ও কেউ কেউ সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন, কেউ সংগঠক হয়ে গহনা বিক্রি করে টাকা পাঠিয়ে সহায়তা করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের রান্না করে খাইয়েছেন, জামাকাপড় পাঠিয়েছেন। যদিও মুক্তিযুদ্ধে নারীর এই গৌরবাণ্বিত অংশগ্রহন আজো সঠিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। ব্যক্তিগত গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে যে চিত্র ফুঁটে উঠেছে তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের সেইক্ষণে ভয়ঙ্কর আতংকিত নির্মম বেদনাঘন সময়ে ,তাদের অসহায় পরিবারের সদস্যরা কেমন ছিলেন? মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর রাজাকার আলবদরদের  নির্মম বিভৎস অত্যাচার, চারপাশে ভয়াবহ আতংক, জীবন্মৃত যাতনার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলেন তারা।  
পাকহানাদারবাহিনী, আলবদর-আলসামসরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া পরিবারের কিশোর, তরুণ,যুব, পুরুষ নারী, আত্মীয় পরিজনদের চিহ্নিত করে যা তাদের জীবনযাপন নির্মম অত্যাচারে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এমন নৃশংসতায় নিজেদের বেঁচে থাকা ও মৃত্যুভয় ও আপনজনদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় কেমন যন্ত্রণাহত দিনযাপন করেছেন; স্বাধীনতার পর স্বইচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া এহেন নৃশংসতা ও জীবনযাপন কেমন ছিল, এ বিষয়ে সরকারি উদ্যোগে কখনোই কোনো গবেষণার উদ্যোগ নেয়া হয়নি, এটি দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ  একটি অন্ধকার দিক।

এটি সত্যি যে, একাত্তরের পূর্বে আমাদের জাতিগত পরিচয় ধার করে নিয়ে চলতে হতো। পূর্ব পাকিস্তান ভুখন্ডে বসবাসের অধিকারী আমরা কি বাঙ্গালী, শুধুই মুসলমান নাকি পাকিস্তানী ছিলাম? অন্য ধর্মাবলম্বীদের পরিস্হিতিও আত্মপরিচয়হীন ও আত্মসম্মানহীন ভূমিতে বাঙ্গালীর জীবনযাত্রা থেকে আরো নিকৃষ্ট ছিল, জীবনযাপন ছিল অসহনীয়।  

৪৭এর পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র দ্বিজাতিতত্ত্বে দু'খন্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানীদের শোষণ শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙ্গালীরা ধর্মবর্ণগোত্র সকল শ্রেণীপেশার জনগণ মিলিতভাবে আত্মপরিচয়ের দাবীতে সকলের নেতা প্রিয়ভাজন শেখ মুজিবুবর রহমানকে নেতা হিসেবে '৭০এর নির্বাচনে বিজয়ী করে আনেন । এরপর ৭মার্চ "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"–  বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি শ্লোগানের বাণীটি দেশস্বাধীন করার নেশায় বাঙালীর রক্তে নাঁচন ধরায় এবং ক্রমশঃ সংঘবদ্ধভাবে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ভাষা আন্দোলনের দেখানো পথে স্বাধীনতাযুদ্ধে অর্জিত  নিজভূখন্ডে গৌরবময় কাংখিত লাল সবুজ পতাকা বাংলাদেশের শক্ত মাটির বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্ত্ততি ও  স্বাধীকার আন্দোলন, প্রগতিশীল আন্দোলনসমূহে পুরুষের পাশাপাশি নারীর গৌরবময় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য ।  তবে দুঃখজনক যে, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর তার নির্দেশে ১৬ খন্ডের মুক্তিযুদ্ধের দলিল লেখার সময় সম্পাদক ছিলেন  হাসান হাফিজুর রহমান। এই সম্পাদনা পরিষদে কোনো নারী সদস্য অন্তর্ভূত না থাকার কারণে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মে নারীর সাহসী অংশগ্রহনের প্রতি অবহেলা,অসমতা প্রকাশের স্পষ্টতর পুরুষতান্তিক চেতনা প্রকটতর ছিল। ফলে গৌরবাণ্বিত মুক্তিযুদ্ধের রচিত ইতিহাসের পৃষ্ঠায় নারীর উপস্থিতি মান ছিল শূণ্যকোঠায় ।

হ্যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারীর ভূমিকায় ধর্ষিতা নারীকে স্পষ্ট করা হয়েছে প্রায় তিন দশক। আর পাকি হানাদারদের নোংরামীর দৃশ্যকে লাইমলাইটে আনা হয়েছিল বার বার ।  এটি ঠিক বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রাম, ইউনিয়ন থেকে শতসহস্র  কিশোরী-নারী ও মহিলাদেরকে মেলেটারী ক্যাম্পে এনে নৃশংসপাষাণ্ড নির্যাতন করা হয়েছিল। এদেশীয় রাজাকার আলবদর নামক কুলাঙ্গাররা ছিল হানাদারদের মনোরঞ্জনের নারী সংগ্রহক। দীর্ঘ নয় মাস  বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শতসহস্র বধ্যভূমি ও গণকবরে নিষ্পাপ নারী পুরুষ শিশুদের হত্যা করে গণচাপা দিয়েছিল মুসলমান নামক পাকিস্তানী হানাদাররা।  প্রায় সকল বাড়িঘর থেকেই তরুণী কিশোরী নারীদেরকে ক্যাম্পে নিয়ে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছে নির্দ্বিধায়। এ কাজ তারা ২৬ মার্চ থেকে প্রথম ডিসেম্বর পর্যন্ত চালিয়ে গেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর মেলেটারী ক্যাম্প থেকে হাজারো হাজারো গর্ভবতী চরম অসুস্হ নারীরা শহরের দিকে ফিরে আসে। বঙ্গবন্ধু খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে এর সমাধানে অষ্ট্রেলিয়ার শল্য চিকিৎসক জিওফ্রে ডেভিসকে এনে গর্ভবতীদের দায়িত্ব দেন। গর্ভপাত ও সন্তান প্রস্রব করাতে গিয়ে ডাক্তার বলেন, যুদ্ধাহত এই ধর্ষিতা মহিলার সংখ্যা ৪লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ ৩০ হাজারের মধ্যে। তিনি বলেন,অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সংখ্যাই ২লক্ষ। এই গর্ভবতী মানসিক ট্রমাক্রান্ত নারীদের মধ্যে অনেকে সন্তানকে হত্যা করা, দুধ খাওয়াতে না চাওয়া, এমনকি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল অনেকে।

তখন নারীদের পূণর্বাসনেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যুদ্ধাহত নারীরের মানসিক সুস্হতার জন্য তখন তার পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছিলেন নীলিমা ইব্রাহীমসহ প্রগতিশীল নারীরা। এই যুদ্ধাহত ধর্ষিত নারীদের পরিবারে চিঠি দিয়ে তাদের নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সেই পরিবারগুলো থেকে কেউ তাদের নিতে আসে নি। যারা এসেছিল তারাও তাদের সামাজিক সম্মানের অযুহাতে নিয়ে যায়নি। এই যুদ্ধাহত নারীদের জীবনভিত্তিক কাহিনী সম্বলিত পুস্তক "আমি বীরঙ্গনা বলছি" লিখেছেন নীলিমা ইব্রাহীম।

এমনতাবস্থায় এই যুদ্ধাহত নারীরা তখন পিতৃপরিচয় কি হবে বঙ্গবন্ধু কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তোমাদের পিতার নামের পাশে আমার নাম লিখে দিও।" এই নারীদের সম্মাণিত করার উদ্দেশ্যে তিনি তাদেরকে বীরাঙ্গনা উপাধি দেন। একই সময় এই যুদ্ধসন্তানদের দত্তক নেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন দেশে প্রতি সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। অষ্ট্রেলিয়া,  কানাডা, ইংলেন্ড এগিয়ে আসেন এবং এদের দত্তক সন্তান হিসেবে নিয়ে যায়।

স্বাধীনতার তিনদশক পর নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কথা প্রকাশ পেতে শুরু করে। গবেষক সুকুমার রায় ও গবেষক আফসান চৌধুরী তারেক মাসুদ ও ক্যাথেরিন মাসুদ নির্মিত মুক্তির কথা, নারী প্রগতি সংঘের ' সংগ্রামী নারী যুগে যুগে, নিবেদিতা দাশগুপ্ত রচিত মুক্তিমঞ্চের নারী পুস্তকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের  গবেষণামূলক রিপোর্টের মাধ্যমে রণাঙ্গনে সরাসরি নারীযোদ্ধাদের সাথে দেশবাসীর পরিচয় উন্মোচিত হতে থাকে। গবেষক আফসান চৌধুরীর গবেষণায় বাংলাদেশ '৭১ বইয়ের ‘আদিবাসী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’অধ্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী নারীদের অংশগ্রহনের বিষয়টি উঠে এসেছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ছদ্মনামে পারভীন হোসেন, নাসরীন আহমেদ শিলু। গান গাইতেন, কল্যাণী ঘোষ,উমা, স্বপ্না রায়, বুলবুল মহলানবীশ, অমিতা বসু, ফ্লোরা আহমেদ, ফেরদৌসী মজুমদার প্রমূখ।

মুক্তিযুদ্ধে  তৃণমূল থেকে উচ্চাসন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ নারীর অংশগ্রহন বিষয়ে গৌরবাণ্বিত গবেষণায় যাদের নাম উঠে এসেছে তা থেকে মাত্র কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি। তারা হলেন, কবি সুফিয়া কামাল, নীলিমা ইব্রাহীম, কল্পনা দত্ত, ইলা মিত্র, মতিয়া চৌধুরী, কাজী মদিনা, কাজী রোজী, নুরজাহান মুরশিদ,লায়লা সামাদ, ডা.ফওজিয়া মোসলেম,সনজিদা খাতুন, যাদুমণি হাজং, লায়লা সামাদ, জাহানারা ইমাম,
রোকেয়া কবীর, সুনামগঞ্জের খাইসা মুক্তি বেটি নামে পরিচিত কাঁকন বিবি,তারামন বিবি, চুয়াডাঙ্গার আলেয়া বেগম, বাগেরহাট জেলার দুই নারী মেহেরুন্নেসা মিরা ও হালিমা খাতুন ২৮ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বিকৃতি পেলেন। একাত্তরের গেরিলা যোদ্ধা আলমতাজ বেগম ছবি, করুণা বেগম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, কিশোরগঞ্জের সখিনা খাতুন, সনজিদা খাতুন, প্রয়াত ফরিদা রহমান, ( ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিএনপি), মালেকা বেগম-
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদিকা, মহিলা পরিষদ ও নারী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, রাফিয়া আখতার ডলি-সাবেক এমপি, প্রয়াত আয়শা খানম,সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক বেবী মওদুদ, চিত্রশিল্পী সাঈদা কামাল, ডাক্তার নায়লা খান, মনোরমা বসু, ননী বালা বড়ুয়া, প্রতিভা মুৎসুদ্দি, ডা, রেণুকণা বড়ুয়া,সুনীতি বড়ুয়া, মেহেরুন্নেসা মেরি, লীনা চক্রবর্তী, জিন্নাতুননেসা তালুকদার,কৃষ্ণা রহমান, রাফিয়া আক্তার ডলি, সুলতানা কামাল, ফরিদা আকতার, আনোয়ারা বেগম, খালেদা এদিব চৌধুরী, আরমা দত্ত, হনুফা খাতুন, মেঘনা গুহঠাকুরতা, নিবেদিতা দাশ, রত্না বাগচি, হামিদা রহমান, হালিমা পারভীন,সুলতানা কামাল, সারা আরা মাহমুদ, হেলেনা খান,রেবা রানী রায়, নিবেদিতা দাশ, নুরজাহান বেগম, মেঘনা গুহঠাকুরতা, হোসনা বেওয়া, সংগ্রামী এক সম্ভাবনাময় মুক্তিযোদ্ধা কবি মেহেরুন্নেসা যিনি ২৫ মার্চ নিহত হন বিহারী সম্প্রদায়ের হাতে।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অনেক পরে স্বিকৃতি পেলেও নারী মুক্তিযোদ্ধারা তাদের নিজেদের লিখিত পুস্তকে বহুপূর্বেই নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাদের নিরঙ্কুশ দায়িত্ব পালনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে প্রকাশ করেছেন। জেন্ডার বিভাজনে মুক্তিযুদ্ধের অবদান দীর্ঘদিন ম্রিয়মাণ হয়ে থাকতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শতসহস্র থোকা থোকা নামে নারী কিশোরী মহিলাদের অবদানের স্বাক্ষী হয়ে আছে, থাকবে। স্বদেশপ্রেম, আত্মপ্রেম, পরিবারের সুরক্ষা, পরিবারের পুরুষকে ও নিজ সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়ে অশান্ত মনস্তত্ত্বের শান্তি ও আর্ধাত্মিক প্রার্থনা সহায়তা লাভের উপায় ও পাকিস্তানীদের অত্যাচার থেকে মুক্তিলাভের জন্য সাংগঠনিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। সেই যুদ্ধ বিধ্বংস আতংকিত সময়ে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই (নারী মুক্তিযোদ্ধা যাদের সকলের নাম আমার লেখায় আসেনি) যে যার অবস্থান থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন, তাদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তারা থাকবেন গবেষণার তথ্য উপাত্তের সঠিক শব্দের প্রমাণিত পুস্তকে। এটা কি ১৬ খন্ডের চেয়ে কম শক্তিবান!

হোমায়রা হুমা: কবি, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।   

ওমেন্স নিউজ সাহিত্য/