সংঘবদ্ধ প্রতিক্রিয়াশীলতা এক মারণাস্ত্র

হোমায়রা খাতুন

হোমায়রা হুমা

প্রতিক্রিয়াশীলদের নগ্ন আগ্রাসনের তীক্ষ্ণ ছোবল প্রগতির আলোয় ঝলমলে জীবন বিনির্মাণের পথে প্রবল অন্তরায়। এর উৎকৃট প্রমাণ অং সান সু চি। মানবাধিকার নেত্রী হিসেবে যার বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল, সেই সুচি কত দ্রুত তার সম্মান হারিয়ে ফেল্লেন। প্রগতিশীল ও গণতন্ত্রীমনা হিসেবে একসময় তার নাম নেলসন ম্যান্ডেলা পাশে উচ্চারিত হতো। অথচ আজ তিনি প্রতিক্রিয়াশীল সেনাবাহিনীর প্ররোচনায়, নিজ ক্ষমতাকে আকড়ে রাখার হীনস্বার্থে, যিনি মানবতা অর্জনের লক্ষ্য দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থেকে, প্রগতির তকমাআঁটা তার নবেল শান্তি পুরস্কারকে আস্তাকুড়ে ফেলে দিয়ে, প্রতিক্রিয়াশীল নির্যাতনকারীদের নোংরা অভিধানে নাম লেখাতে লজ্জাবোধ করেননি। আজ তাকে কঠিন প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে বৈকি।

গুগলে বলা হয়েছে যে, প্রতিক্রিয়াশীলতার অর্থই হচ্ছে প্রগতি বিরুদ্ধ মুক্তচিন্তার ওপর হিংসাত্মক আচরণ ও হামলা। একটি অশুদ্ধ বিক্ষুব্ধ আচরণের মাধ্যমে প্রগতিশীলদের স্বাধীন পথ ও মতের ওপর প্রতিক্রিয়াবাদীদের নগ্ন হামলা ও আগ্রাসন কখনো গোপন কখনো প্রকাশ্য রুপে নির্লজ্জ আক্রমণ ।  

পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে আমরা যতই নিজেকে প্রগতিশীল বলে প্রকাশ্যে ও মনে মনে ভাবতে ও ভাবাতে চাই, প্রগতির ধারকবাহক ভেবে অহংকারে যতই ডুবে থাকি না কেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা সকলেই কোনো না কোনোভাবে প্রতিক্রিয়াশীল। যদিও আমাদের চলনেবলনে, বক্তৃতার উপচে পড়া শব্দের মাধুর্যে, লেখার উদারহণে, কথায় কথায়  শতশত প্রগতির পাখনায় মেলে ধরি প্রগতিশীলতার রঙিন পাখা। কিন্তু আমরাও জানি সময়মত ও প্রয়োজনে কথিত প্রগতিবাদীরা দিনশেষে নিজেকে প্রতিক্রিয়াবাদীর  রঙিন ছাতার নীচে দাঁড়িয়ে চেতনার নড়বড়ে পিঠকে রক্ষা করি। প্রতিক্রিয়াশীলদের  নোংরা আক্রমনের আহত শিকারকে অর্থাৎ ভিকটিমকে রক্ষা করার পরিবর্তে সংবিধান, সামাজিক নিয়মনীতি, ফৌজদারী আইন, আদালত,  ধারা উপধারার অযুহাত দেখিয়ে উত্তেজিত পরিবেশের তপ্ত তেলে  সাহায্যপ্রার্থি, ভিকটিমকে রেখে, প্রগতির কথক নেতা, পাতিনেতা, উপনেতা, পাশ্ববর্তী নেতা,সুবিধাবাদী নেতারা সচেতনভাবে দূরে সরে যায়। আর বলে,  'বিশ্বাস করো আমি তোমার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছি,
তুমি আমার সাথে সময়মত যোগাযোগ করলে না কেন'। আরো বলে ' তুমি কোথায় কি যে বলো নিজেই তো বোঝো না, তোমার জন্য আমি কি বিপদে পড়বো নাকি; এখন যাও..' এযে প্রতিক্রয়াশীলদের আড়ালের মুখস্হ তর্কবাগিশ ।  কখনো কখনো চাপে পড়ে যদিও বিষয়ভিত্তিক তদন্ত করার সিনারিও (দৃশ্য)তারা দেখায়,  আসলে সেখানে থাকে না কোনো নিরপেক্ষ সত্যমিথ্যা যাচাই পদ্ধতি ও প্রকাশ্য স্বচ্ছতার প্রমাণ ।

এভাবেই প্রতিক্রয়াশীলদের নির্যাতন ও আক্রোশের বিরুদ্ধে অ্যাকশান নেয়া হয় না কোনোভাবেই, কোনোদিনই।  প্রতিক্রিয়াশীলদের আত্মীয়বন্ধু, সুযোগদানকারী, দুর্নীতিপরায়ণ বিধায় সাহায্যপ্রার্থী আরো প্রবল আক্রমনের শিকার হয়। প্রতিক্রয়াশীল ব্যক্তি ও তার দলভুক্তরা কেবলমাত্র  নিজের পদ ও অবস্হানকে ঠিক রাখা, আরো শক্তিশালী করার কাজে ব্যস্ত থাকে। এবং নিজের সততা প্রকাশে এভাবেই সকলক্ষেত্রে সুক্ষ্মদর্শী ব্যবস্হাও পাকাপোক্ত করে। প্রতিক্রিয়াশীলদের কর্ম এমনই। দলগত পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে প্রগতির পথকে আটকে দেয়। মিয়ানমারের জনগনের ওপর নিষ্ঠুরতার প্রমাণ বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান। অদৃশ্যমান পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। প্রকৃতপক্ষে প্রতিক্রিয়াশীলদের কোন আপনপর নেই। এরা চরম স্বার্থপর, এদের কোনো  বুকপিঠ থাকে না। কয়েক বছর পূর্বে হেগ সম্মেলনে আন্তজার্তিক বিচার আদালতে দাঁড়িয়ে সুচি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংস নির্যাতনের পক্ষে সাফাই গাইলেন। যার ফলাফলে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসীন হতে পেরেছিলেন নোবেল শান্তি পদকপ্রাপ্ত সুচি; বিশ্ববাসী দেখেছে। আসলেই এরা যুগের পর যুগ দলগত সুবিধাভোগী ছিল, থাকে, থাকবে।

প্রতিক্রিয়াশীলদের একটি আচরণগত বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা যা করে নিজের জন্য করে। প্রতিক্রিয়া পটিয়সী সংক্ষুব্ধ দুষ্টমানুষ ও দল তার প্রতিপক্ষকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে একমিনিটও দেরি করে না, করবে না। ধরুন, পরিবারে অথবা অফিসের অধিনস্ত কর্মসহকারীকে বস তার নিজ প্রয়োজনে বিশেষ সুবিধা প্রদান ও আদরের অভিনয় করে প্রকৃতপক্ষে তাদেরকে গুপ্তচর ও একশ্রেণির মাতব্বর হতে সহায়তা করেন। তাদেরকে এতো আস্কারা ও সুযোগসুবিধা দেয়া হয় যে, অফিসের  সকলকে ও পরিবারের সবকিছুতে তার নাকগলানো ও টপাটপ সমালোচনার একচ্ছত্র ভয়ঙ্কর অবস্থান অর্জন করে। ফলে পরিস্হিতি এমন দাঁড়ায় যে,অধিনস্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়াশীল বসরা বিবেক বিবর্জিত আচরণে বিক্ষুব্ধ সিদ্ধান্তে পরিবার ও অফিসের পরিবেশকে জলন্তচুলায় তপ্ততাওয়ায় পরিণত করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হয় না। প্রকৃতপক্ষে সব নিজের পথ পরিস্কার করার উর্দ্দেশে। সেই সাহায্যকারীও বুঝতে পারে না যে সেও ব্যবহৃত।

এই সমাজে,পরিবারে, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, কর্মস্থল,পরিবার, এলাকায় ও রাজনীতির অঙ্গনে নিজস্ব সুবিধাবাদ দৃষ্টিকোণ ও ভঙ্গী, উদ্দেশ্য, গোপন স্বার্থ পূরণে সকলের অগোচরে অবলীলায় প্রতিক্রিয়াশীলদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। কেবলই নিজের স্বার্থে এসব অঞ্চলে নানামুখী হিংসাত্মক আস্ফালন বাড়িয়ে দিয়ে নিজের মতাদর্শে ক্ষমতায় দল গঠন করে আর বলে এটাই বিধান, সংবিধান। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে এদের শক্ত অবস্থান অদৃশ্যমান ।

তবে এই প্রতিক্রিয়ার অপ্রকাশ্য ও প্রকাশ্য রূপ আছে। প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিহিংসা তবু তো পরিমাপ করা যায়। কিন্তু গোপন শত্রুতা অনেক শক্ত মানুষকেও মাটি সাথে মিশিয়ে দিতে পারে এই প্রতিক্রিয়াশীলতা । গোপন রাগ, বিরাগ, হিংসা,বিদ্বেষ, প্রতিযোগিতাস্পৃহা, সহযোগিতায় বিমুখতা, প্রতিহিংসা, আক্রোশ, প্রতিক্রিয়াশীল সঙ্গী ও অন্যান্য দলনেতাদেরকে  ব্যাপক পরামর্শে উস্কে  প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে সিদ্ধহস্ত  তারা। অনেকক্ষেত্রে বছরের পর বছর উগ্রতাকে মনে পোষণ করে সুযোগের সদ্বব্যবহারে যে নীচতার প্রকাশ ঘটে যাতে সাধারন নিরীহ জনগোষ্ঠী তাদের সর্বস্ব হারায়। ব্যবসা, চাকরি, পদ,পদবী,পরীক্ষার খাতার নম্বর জোচ্চুরি, বন্ধুত্বের ধূর্ততা, বিবাহ, পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন, সমাজিক দায়িত্বে, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হাপনায়, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ণ, বহুবিধ কার্মকাণ্ডের ক্ষেত্রকে রোডম্যাপ ধরে প্রতিক্রয়াশীলরা তাদের ইচ্ছেকে ইচ্ছেমত বাস্তবায়ন করে থাকে। প্রগতির  লক্ষ্যভেদী কঠিন পথকে পাশ কাটিয়ে মিষ্টি কথার নরম বিছানায় গা এলিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয় তারা।

মিথ্যাচার হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীলদের উৎকৃষ্ট হাতিয়ার। আর মিথ্যেকে বিশ্বাসে পরিণত করা হচ্ছে এর অন্তর্নিহিত শক্তিরস। একজন প্রতিক্রিয়াশীল গোপনে নিজের হিংসের আগুন বহন করে এবং তা অন্যের মাধ্যমে পরিবারসহ নানান ক্ষেত্রে তা রোপণ করে ও তার পরিচর্যাও করে। অন্যেকে কানপড়া দিয়ে উত্তপ্ত করে এবং অন্যকে দিয়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে নিজপ্রতিশোধ নিতে পিছপা হয় না। প্রতিক্রয়াশীলদের পকেটে এমন রেডিমেড স্বার্থণ্বেষী বন্ধু থাকে। যদিও সবাইকেই তারা শত্রু বলেই মনে করে। বন্ধুত্বকে রক্ষা করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে, তারা বন্ধুর সাহায্যে শক্রকে ঘায়েল করার টার্গেট তৈরি করে। এখানে সত্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই, কেননা পূর্বেই এরা  মিথ্যেকে বারবার বলে সত্যতে পরিণত করে নেয়। যেমন দেখুন সকলেই মুষ্টিমেয় হুজুরদের ভুল ও মন গড়া ওয়াজের ফলে নারীদের প্রতি নিকৃষ্ট আচরণ বৃদ্ধি পায় , রাজনীতিবিদের স্বার্থের নির্দেশে নতুন নতুন দল গঠন, এলাকার বড় ভাইয়ের হুকুমে কিশোর গ্যাং,অফিসের বস ও সামাজিক সংগঠনের উর্ধ্বতনদের চোখের ইশারা, সংসারে শাশুড়ি ও বউয়ের মিষ্টি-তিতা গরমঠাণ্ডা আওয়াজ, স্বামীর  আদেশে-নির্দেশে অনিচ্ছা সত্ত্বে চলি, বলি, নাচি আর অন্যকে নাচাই। মানুষের ক্ষতি করা, খুন করা, মামলা করে নিঃশেষ করে দেয়া, চুল ধরে রাস্তায় নামানোর হুমকি, কখনো বড় ভাইয়ের হুকুমে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া এবং ভিন্ন মতাবলম্বীকে দলচ্যূত ও চাকরিহীন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিক্রিয়ায় দিনে দিনে আমাদের ভেতর এক অন্ধ মিথ্যে আদর্শ তৈরি হয় যে ‘যত অন্যায় করি না কেন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বড় খালা বা বস, বড় ভাই অথবা বড় বোন বা ভাবী তো আছেই, আমি যা-ই করি না কেন আমাকে প্রশ্রয় প্রদানকারীরা আমাকে রক্ষা করবেই।’আসলে প্রতিক্রিয়াশীল পুরো চক্রটাই নিজ লক্ষ্যসাধনে একে অপরের পিঠ চুলকাতে ব্যস্ত।

প্রতিক্রিয়াবাদের জন্য এক অস্থিতিশীল পরিবেশে দল ভারি করা, আপন মতাদর্শ প্রচার- প্রতিষ্টিত করা  আরো সহজ হয়। এই চক্রবিন্দু  থেকে আমরা কি নিজেদের মুক্ত রাখতে ও মুক্ত ভাবতে পারি? না পারি না। কোনো না কোনোভাবে আমরা চামচামিতে অভ্যস্থ ও আবদ্ধ, চামচামির দল পালতেও পছন্দ করি বৈকি, ফলে নির্দ্বিধায় জড়িয়ে পড়ি এই দুষ্টচক্রের আর্কষনীয় আচরণদুষ্ট ভ্যানিটি ব্যাগে।

আমরা দেখিছি বহু রাজার রাজত্ব এভাবেই ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশপ্রেমী নবাব সিরাজদ্দৌলাকে ঘসিটি বেগম,রাজবল্লভ, মীরজাফর,বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন খন্দকার মুশতাক আর ধর্মের ধ্বজাধারীর মিথ্যেবাদী ওয়াজদাতা ও চাঁদে নেতার মুখচ্ছবি দেখিয়ে অরাজকতা সৃষ্টকারীদের কথা তো সহজে ভুলে যাওয়ার নয় আমাদের।এমনই আরো কতশত নাম ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে যে,তারা কিভাবে প্রতিক্রয়াশীল কুটিলতায় বছরের পর বছর কানপড়া দিয়ে মানুষকে- সাধারণকে ষড়যন্ত্রের গরম কড়াইয়ে পাকোড়ার মত ভেজে খেয়েছে,আর ধ্বংস করেছে মানবতার সত্য উপলব্ধিকে।

প্রতিক্রিয়াশীল আর প্রগতিবাদী কখনো এক সমান্তরালে চলতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধকালের গণকবর, বদ্ধভূমি, নারীদের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস, সারা বাংলায় আজো প্রতিক্রিয়াশীল রাজাকার তৈরী করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, গুম, অগ্নিসংযোগ তো ইতিহাস স্বিকৃত। এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলখানায় চারনেতা হত্যা, স্বৈরাচারী আমলে ছাত্রদের ওপর ট্রাক উঠিয়ে হত্যা, ডা.মিলন হত্যা, শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা সবকিছুই প্রতিক্রয়াশীলদের নোংরা হিংসাত্মক কর্মযজ্ঞ। প্রগতিবাদকে ধ্বংস করার নীলনক্সা যা বাস্তবায়ন হচ্ছে '৪৭ এর পূর্ব থেকে আজ অব্দী। যা  আজো চলছে।

বাংলাদেশ জন্মের পরিচয় প্রগতির, আর প্রগতিকে বাধাদানকারীরা হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল। হিংসা,প্রতিহিংসা,আক্রোশে আবদ্ধরাই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আজো করে যাচ্ছে। প্রগতির আলোকিত চিন্তাচেতনাকে ধ্বংস করারই তাদের উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে প্রতিক্রিয়ার অন্যায়কে সমর্থন দিয়ে আমরা মিথ্যেকে জায়েজ করি নিচ্ছি নিজের প্রয়োজনে। বুকে হাত দিয়ে কে বলতে পারে যে,পরিচিত  আপনজনের কোনো ক্ষতির খবর শুনলে অথবা প্রতিপক্ষের চরম অবনতির কথা জানার পর ভেতরে ভেতরে গোপনে আত্মতৃপ্ত না হয়, কারণ সকলেই কোনো না কোনভাবে প্রতিক্রিয়ার ঘুণে আক্রান্ত। বুকের অতলান্তিকে পুষে রাখা চরম প্রতিশোধের আগুনে মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে কয়লা করে  নিজমনকে প্রশান্ত করে –এটাই হচ্ছে প্রতিক্রিয়ার ছত্রছায়া।

মানুষমাত্রই প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া চেতনার ধারক বাহক,বাস্তবায়করা মস্ত নায়ক-ভিলেন। এযে কি মারাত্মক মারণাস্ত্র, যে বা যারা এহেন বিষক্রিয়া ও প্রতিহিংসা রোষানলে জ্বলেছে, সে-ই জানে এই প্রতিক্রিয়াবাদী হিংসুটেরা চেইন অফ কমান্ড কত শক্তিশালী,কত গভীরে আরএকই শেকড়ে গ্রোথিত।

হোমায়রা হুমা: কবি, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।   

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/

লাইক, কমেন্টস, শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন