আফরোজা অদিতির দুটি কবিতা

আফরোজা অদিতি

কবিতাগল্প

দিন চলে গেছে, দিন চলেই যায়!
অবুঝ মন তবুও পেতে চায় পাওয়ার অধিক!
সে পেয়েছে অনেক! যা, তার তা-ও পেয়েছে  
যা, তার নয় পেয়েছে তা-ও!  তবুও সংবৃতার
দু’চোখ ভিজে থাকে, ভিজে থাকে প্লাবণ-জলে!

সংবৃতা ভাবতে পারে না নয়, ভাবতে চায় না
যা চেয়েছিল একান্তে তা নিয়েছে অন্যে! সেখানে
নেই কোনো অধিকার! সংবৃতার অধিকার জবর-দখল
নিয়েছে অন্যজনে; যেমন কব্জা করেছে কোভিড ১৯!
করোনার মতো জবর-দখল নিয়েছে ওর ফুলবাগান,
জলের পুকুর, পত্র-পুষ্প ছাওয়া কুঞ্জকানন!

মাঝেমধ্যে উদাস ভাবে সংবৃতা,
সে কী করোনার মতো মারণঘাতক!
না হলে এতোদিন একত্রে তবুও ভিটেমাটি ছাড়া
কেন?  কেন নেই নিজের কিছু! কেন নেই? কেন?  

ঘরের বাতি বন্ধ, বন্ধ ঘরের কপাট!
দরোজার বাইরে পুষ্পপাপড়ি বিস্তৃত সুখের প্রতিমা!
বেদনার নীলজল তড়পায় সংবৃতার বুকে; অন্ধ রাত।
সবুজ হাওয়ায় কাঁপে পুষ্প-প্রদীপ ঝালর।

রাতের আকাশে ওড়ে জীবনানন্দের চিল!
ওড়ে রবীন্দ্রনাথ,নজরুল, অচিন্ত্য, অমিয়, বীরেন্দ্র,
পূর্ণেন্দু, তারাপদ, সুফিয়া, নীলিমা! সংবৃতার চোখে
নয়নতারা, জীবনের গিঁট জোড়া লাগে না তবুও।

কবিতাগল্প ২

মোবাইলটা বাতিল করো
যে মোবাইল সংসারে অশান্তি আনে
কাজ কি সেটি কাছে রেখে

এমনিতেই অশান্তির শেষ নেই
তার ওপর এই নতুন যন্ত্রণা; রোজ রোজ
তার সঙ্গে রাগ করতে করতে ক্লান্ত ভালো
লাগছে না আর।

সংবৃতা ভাবে
ওকে ঘিরে থাকে সবাই, ঘিরে আছে কিন্তু
কোথাও যেন কেউ নেই! একেবারে নিঃসঙ্গ
একলা গাছে একলা ফুলের মতো একলা একা!
তার কী অবস্থা জানে না সংবৃতা! অজ্ঞ তার বিষয়ে!
কোনো কিছুই জানতে দেয় না সে! জানতেও চায় না
সংবৃতা! শুধু ক্লান্ত, অবসন্ন বিদীর্ণ এক জীবনের কাছে
সমর্পিত হয়ে আকাশ আলো করা নক্ষত্রের জন্য
বুকের ভেতর বাজিয়ে চলে ‘বড়ে গোলাম’!

রোজ স্বপ্নে জাগরণে ডাকে সংবৃতা, ফিরে এসো
ফিরে এসো তুমি। ফিরে এসো এই জীবনের
খেলাঘরে। কবিতার মতো কথাগুলো লিখে
খুব খুশি হলো সংবৃতা।

তারই জন্য লিখেছে! জীবন তো তারই জন্য!

আফরোজা অদিতি: কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৫টি। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার যার মধ্যে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, কবি কামিনী রায় সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় সাহিত্য পরিষদ, বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ও বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটির পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

ওমেন্স নিউজ সাহিত্য/