শাহলা আহমেদের স্বাধীনতা দিবসের কবিতা ‘কিছু ভাবনা’

শাহলা আহমেদ

কিছু ভাবনা

সেই ভয়াবহ কালো রাত্রি।
সর্বস্তরের জনতা দামাল যুবক
বৃদ্ধ, নারী  যুদ্ধে নেমেছিল-  
পিছন ফেলে পরিবার পরিজন।
ছিল না ওদের দক্ষ অনুশীলন,
ছিল কেবলই সাহসী মনোবল-
দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে
মুক্ত করার অদম্য ইচ্ছে।

ছটফটে দুরন্ত যুবকটি ভাবছে-
মা কি এখনও ওর পথপানে চেয়ে
বসে আছে, ওই জানালার ধারে?
রাত করে বাড়ি ফিরলে-
বাবার বকুনি খেতো।
বলতেন মাকে আর কষ্ট দিস না।
আদুড়ি বোনটার সাথে খুনসুটি
আর  ছোট্ট ভাইটি, ঝাঁপিয়ে পড়ে
কাঁধে উঠে বসতো!
সংসারের ত্রকমাত্র উপার্জক ব্যক্তি যার
অজানা আশাঙ্কা-
বউটা কেমন আছে, কোলে দুধের শিশু
একটি বোন, বুড়ো মাকে ফেলে
হুট করে যুদ্ধে যোগ দিলো।
শিশুর মুখটা ভেসে উঠে-—
ইশ কতদিন দেখেনি, ওকে দেখলেই
ফিক করে হেসে উঠতো।

কলেজ পুরুয়া শান্ত শিষ্ট ভীতু মেয়েটি-
বাবা মার অনিচ্ছা সত্তেও বন্ধুদের
সাথে ছুটে গেল-টগবগে রক্ত, কোনও
বাঁধাই পারেনি রুখতে।
যুদ্ধের মাঠে  এক সহকর্মী কেঁদে কেঁদে
বলেছিল ওকে না পেয়ে বোনকে উঠিয়ে,
নিয়ে গেছে-—
নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করলো বাকি সবাইকে।
অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠে সকলের।
তাদের পরিবারের ভাগ্যে বা কি ঘটলো?

দেশ আজ স্বাধীন।
কেমন আছে ওরা?
বীরাঙ্গনা উপাধি তারাই বা কেমন আছে?
ছেলেটি কি মায়ের কোলে ফিরে এসেছিল?
যারা ওপারে পালিয়ে গিয়েছিল সর্বস্ব
ফেলে তারা কি ফিরে পেয়েছিল তাদের
হারানো সম্পদ?
ওরা কি মুক্ত আকাশে সুখ খুঁজে পেয়েছে ?
দু বেলা পেট পুরে খেতে পারছে কি?
না কি আজ ও জীবন  সংগ্রামে লিপ্ত
না খেয়ে না পরে…!

প্রতি বছর আমরা দিবস পালন করে যাই,
কখন ও কি ভেবেছি ওরা, ওদের পরিবার
কেমন আছে? চোখ ঝলসানো
জাঁকজমক আলোকসজ্জা, আনন্দ ফূর্তিতে
দিন কাটিয়ে দেই-

ওদের  আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ
আজ পৃথিবীর মানচিত্রে পেল স্থান কিন্তু
ওদের স্থান কোথায়?

কবি পরিচিতি: শাহলা আহমেদ একজন প্রবাসী কবি। দেশের বাইরে থেকেও নিয়মিত গল্প, কবিতা, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনী লিখে চলেছেন। এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম কবিতার বই ‘স্বপ্ন বুনন’।

ওমেন্স নিউজ সাহিত্য/