আফরোজা অদিতির গল্প ‘লাল টিপ সাদা শাড়ি’

আফরোজা অদিতি

লাল টিপ সাদা শাড়ি

অনেকদিন পর ওদের বাসায় এসেছে রীনা। মেয়ের বিয়ের জন্য নেমন্তন্ন  করেছে ; ছেলেকে পাঠিয়ে নিয়েও এসেছে ওকে। রীনা সম্পর্কে  খালাতো বোন; বোন হলেও বন্ধুর থেকে বেশি। প্রিয়জন কাছে থাকলে সুখদুঃখের কথা বলে সময় কাটানো যায় যেমন তেমনি কথা বলে মন হালকাও করা যায়! রীনা, স্বামীর সুবাদে থাকে জেলা শহরে। স্বামী ব্যবসা করে। রীনা স্কুল টিচার। করোনা শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে রীনাদের ওখানে গিয়েছিল রেবা; কয়েকদিন ঐ জেলা শহরে ভালোই কেটেছিল ওর। ওখান থেকে চলে আসার পরই শুরু হয়েছিল লকডাউন। এখন অবশ্য লকডাউন নেই সবকিছু মোটামুটি স্বাভাবিক! স্কুল-কলেজ খুলে গিয়েছে, বিয়েশাদীসহ অন্যান্য উৎসব চলছে। কিন্তু এখন ডায়েরিয়া হচ্ছে ঘরে ঘরে, জ্বরও আছে। করোনায় মৃত্যু নেই কিন্তু মাঝেমধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। কখনও কখনও  মহামারি বা অতিমারির পরে এটা হতেই পারে; নিজেদের সাবধানে থাকতে হবে, ভ্যাকসিন নিতে হবে। রেবার ভাবনাতে এখন করোনার কোনো বিষয় নেই, ভাবছেও না। এখন ওর মন জুড়ে শুধু আছে মেয়ে, রেখা। করোনা শুরুর প্রথম দিকে মেয়ে, রেখার কাবিন হয়েছিল। দুই পক্ষের ইচ্ছাতেই বিয়ের অনুষ্ঠান কয়েকদিন পরে করার কথা হয়েছিল কিন্তু লকডাউন এবং অন্যান্য বাধানিষেধের জন্য অনুষ্ঠানটি হয়নি। মেয়ে একটাই তাই বড়ো একটা অনুষ্ঠান করারও ইচ্ছা ছিল নিজেরও। সব বাবা-মা-ই চায় তাঁদের সন্তানের বিয়ে হোক বা জন্মদিন বা অন্য আয়োজন, সবকিছুই ধুমধাম করে করার। এখন করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়াতে মেয়ের  শ্বশুরবাড়ি থেকে আর দেরী করতে চাইছিল না। ওদের ইচ্ছা ছোটোখাটো একটা অনুষ্ঠান করে ওদের বউ নিয়ে যাবে ওরা। আরও আগেই পাঠিয়ে দিতে পারতো কিন্তু দিতে ইচ্ছা করেনি; মেয়ে চলে যাবে ওদের ছেড়ে অন্য বাড়ি তাতে ওর মন সায় দিতে চায়নি কিন্তু এই হলো সমাজিক নিয়ম-নীতির বন্ধন মানতে না চাইলেও মানতে হয়, মানতে হবেই। জীবনপাত করে সন্তান বড়ো করে ছেড়ে দিতে হয়, মেয়ে চলে যায় বাড়ি ছেড়ে অন্যবাড়ি অর্থাৎ শ্বশুরবাড়ি আর ছেলে কিছুদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে থেকে চলে যায় তাঁর নিজের বাড়ি, নিজের সংসারে। ওদের যেতে দিতেই হয়, না হলে কষ্ট বাড়ে। বাবা-মা যে কষ্ট করে লালনপালন করে ছেড়ে না দিলে সেই কষ্ট ক্রমশ বাড়তেই থাকে। শুধু বাড়তে থাকে তা নয় বেড়েই চলে অগ্নিশিখার মতো! কিন্তু কথা তা নয়; মায়ের মন কেমন যেন খুশি নয়, খুশি হতে পারছে না! কেন পারছে না? এই প্রশ্নের জবাবও মিলছে না। তাই তো অস্বস্তি বাড়ছে!

মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়ে গেছে। বিয়ের পরদিন ফিরানি-ঘুরানি শেষে শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে মেয়ে, রেখা। মায়ের মন বিষণœ, মেয়েরও। দুইদিন বাবার বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে ছিল রেখা। বাবার বাড়ি থেকে এখানে আসায় মন বিষণœ হলেও সদ্য বিয়ে হওয়ায় অলংকারে ঝলমল করছে রেখা; আয়নার সামনে বিষাদগ্রস্থ মনে একটা একটা করে অলংকার খুলছিল আর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিল নিজেকে। হঠাৎ মনে হলো আয়নাতে ছায়া ভেসে গেল কারও। আয়নাতে দেখতে পেলো একজন সুন্দরী তরুণীকে। তাঁর মাথায় লাল চেলি; লাল চেলিতে ভালো দেখাচ্ছিল তরুণীটিকে। রেখার মনে হলো তরুণীটি নতুন বউ। কিন্তু একটু দোটানায় পড়লো; মেয়েটির পরনে কেন সাদা শাড়ি। চন্দনে সাজানো মুখ, কপলে সবুজ টিপের জমিনে লাল ফোঁটা,লাল চেলি কিন্তু সাদা শাড়ি! একটু অদ্ভূত লাগছে! সাদা বেনারসি,সাদা ব্রোকেডের ব্লাউজ, খোলা চুল আর খোলা চুলের ওপর লাল চেলি। চুল খোলা কিন্তু লাল চেলি; সাধারণত হয় না। খোপাতে মানায় ভালো চেলি। প্রথমে একটু অদ্ভূত লেগেছে; এখন খুব অবাক হলো রেখা। আশ্চর্য!  মেয়েটির মুখে বিয়ের সাজ, চন্দনের ফোঁটা দিয়ে সাজানো মুখ, কপালে সবুজ বড়ো টিপের মাঝে গোল ছোট্ট একটি লাল টিপ যেন তরুণীর ললাটে শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের পতাকার ক্ষুদ্র চিহ্ন! মিষ্টি দেখতে লাগছে!

 রেখা তাকিয়ে আছে আয়নাতে; মন খারাপ নিয়ে কী দেখছিল তা নিজেই জানে না রেখা। হঠাৎ ওর বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো। আয়নায় আবারও তরুণীটির ছায়া ভেসে উঠেছে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে নেই কেউ, কেউ নেই। আশেপাশে কেউ নেই অথচ আয়নাতে ছায়া? আয়নাতে ছায়া পড়ে কখন? যখন আয়নার সামনে কেউ দাঁড়ায়! নিজেকে প্রশ্ন করে রেখা কেউ নেই আয়নার আশেপাশে তাহলে আয়নাতে ছায়া পড়েছে কার? কার ছায়া পড়েছে? আয়নাতে আছে অথচ বাইরে নেই; বিয়ের সাজন সেজেছে অথচ সাদা শাড়ি। কেন? মেয়েটি কে? কে ঐ মেয়েটি? রেখার বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করছে। ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছে কিন্তু পারছে না। যেন ওকে কেউ বেঁধে রেখেছে বায়বীয় কোনো দড়িতে। দড়িটি দেখা যাচ্ছে না কিন্তু বাঁধন খুলতেও পারছে না! খুবই আশ্চর্য হচ্ছে রেখা। এতই আশ্চর্য যে চোখদুটো চোখের কোটর থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছে আর কাউকে ডাকতেও পারছে না। মায়ের কথা মনে পড়ছে। কয়েকবার মা, মা, মাগো বলে ডেকেও ফেললো। কিন্তু মা তো নেই।

রোহান, ওর স্বামী, ওকে ডাকতে পারছে না। মা’কে ডাকতে পেরেছে কিন্তু রোহানকে ডাকতে পারছে না। রোহান ওয়াসরূমে।   বাইরে গিয়েছিল। করোনা সময়ের অনেকগুলো দিন পার করেছে ওরা, বর্তমানে করোনার ভয় নেই তাও বাইরে থেকে এসে অভ্যেস মতো গোসল সেরে নিচ্ছে রোহান। বাইরে যেতে চায়নি রোহান, যাওয়ার সময় বলেছিল যেতে ইচ্ছা করছে না, কিন্তু নতুন বিয়ের অনেক হ্যাপা। এর-ওর বাড়ি যেতে হয়, নেমন্তন্ন খেতে হয় নিমন্ত্রণ দিতেও হয়। কী আর করার আছে। রোহানের কথা ভাবতে ভাবতেই আয়নার ভেতরে ছায়াটি আবার ভেসে গেল। আয়নার ভেতরের তরুণী বউটির অঙ্গভঙ্গি দেখে রেখার মনে হলো ঐ বউটি কিছু বলতে চায় ওকে। এরই মধ্যে রোহান বেরিয়েছে ওয়াসরূম থেকে। রোহান বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি উধাও! রোহান বেরিয়েছে তা বুঝতে পারেনি রেখা। বউটিকে খুঁজছে। আশ্চর্য! গেল কোথায়? এদিক-ওদিক দেখছে রেখা! নাহ্ কোথাও নেই। কী হলো? এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছ কী? স্বামীর প্রশ্নে চমকে ওঠে রেখা। স্বামী, রোহান কখন এসেছে বুঝতে পারেনি। কই কিছু দেখছি না তো! স্বামীর প্রশ্নের উত্তরে বলে রেখা। রেখার সঙ্গে আর কোনো কথা বলে না রোহান। ভিজে চুল মুছে শার্ট গায়ে দিয়ে
মায়ের ঘরে চলে যায় রোহান। মায়ের ঘরে যেতেই পারে কিন্তু  বিয়ে হয়েছে সাতদিন। মায়ের বাসায় ছিল দুইদিন এখানে পাঁচ দিন। এই কয়েকদিনের মধ্যে স্বামীকে রাতে মায়ের ঘরে যেতে দেখেনি রেখা। একটু অবাক হলো। বাইরে থেকে এসে কোনো কথা নেই এমন কি টেবিল সাজাতেও বললো না চলে গেল মায়ের ঘরে। অসুখ-বিসুখ হলে একটা কথা থাকে। রেখার একটু অবাক লাগছে এই কয়দিন একদিনও রাতে মায়ের ঘরে যেতে দেখেনি এমনকি দিনর বেলাতেও কোনো কথা বলতে দেখেনি।  

স্বামী ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়নাতে ভেসে ওঠে লাল চেলী পরা তরুণীটির অবয়ব। এবারে তরণীটি হাত ইশারায় ডেকে আয়নার খুব কাছে যেতে বলে ওকে। রেখা কাছে গিয়ে দাঁড়াতে আয়নার ভেতরের তরুণীটি বলে, তুমি সাবধানে থাকবে ভাই রেখা।
তুমি আমার নাম জানো? তরুণীটির কথায় বিস্ময়ে প্রশ্ন করে রেখা।
জানি তো।
বেশ। কেমন করে জানো তাই তো জিজ্ঞেস করছি।

তরুণী তখন বিষাদক্লিষ্ট কন্ঠে বলতে শুরু করে, এই ঘর একদিন আমার ছিল। এখানে আমিও ছিলাম। পাঁচ বছর আগের এই দিনে এই বিছানাতেই আমি চলে গেছি যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে। থুক্কু, আমি যেতে পারিনি ভাই, গেছে আমার আত্মা, আমার সোল। এই বিছানাতে সাতদিন কেটেছিল স্বামীকে বুঝতে, অবশ্য বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। আমি যেতে চাই কিন্তু পারি না। এখানেই আমি ঘুরঘুর করি। করতে হয়! ছাড়ো তো আমার কথা ছেড়ে দাও, তুমি সাবধান। তোমাকে সাবধান করতেই আমি মূর্ত হয়েছি এখানে!
তুমি কে? কন্ঠে উদ্বেগ আর উষ্মাতে মাখামাখি।
আমি রোহানের প্রথমপক্ষ! রোহানের আগে বিয়ে হয়েছিল জানে রেখা। বিয়ের সাতদিনের দিন রাতে মারা যায় বউটি। ওরা বলে আত্মহত্যা করেছে বউটি।  তরুণী বউটি তখনও আয়নার ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে! বাইরে রোহানের পায়ের শব্দ। সরে গেল ছায়া। রোহান এলো। রোহানকে দেখে কেন যেন ভয়ভয় লাগছিল রেখার। ভয় লাগলেও মনের মধ্যে চিন্তা এলো ঐ মেয়েটি তো আত্মা। ওর কথা কী বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। তাছাড়া রোহানকে তেমন খারাপ মানুষ তো মনে হয় না। এসব কথা মনে জেগে উঠলেও মনের কথা মনেতে রেখে দেয় রেখা; কথাগুলো মন থেকে বাইরে বের হতে দেয় না!  

পরদিন।
রোহান বের হয়ে গেলে বিছানা গুছিয়ে টেবিল গোছাতে গিয়ে বইয়ের ভাঁজে একটি মেয়ের ছবি দেখতে পায়; মেয়েটি হুবুহু আয়নাতে ভেসে ওঠা মেয়েটির মতো দেখতে। রেখা শুনেছে, কোনো বাড়ির বউয়ের আত্মহত্যা করা বা বউয়ের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অর্থই হলো ঐ বাড়ির মানুষেরা কম-বেশি খারাপ। বউয়ের যে দোষ থাকে না তা নয়! তবুও মনের মধ্যে খচখচ করছে, মনের ভেতরের ভয়টা ক্রমশ বাড়ছে। প্রায় বছরের কাছাকাছি আক্থ হয়ে বাবার বাড়িতেই ছিল তখন রোহান দুইদিন গিয়েছে কথা হয়েছে কিন্তু একত্রে থাকা হয়নি। তখনও যেমন কোনো খারাপ আচরণ দেখেনি এখনও তেমন দেখতে পায়নি, পাচ্ছে না। মেয়েটি যে কেন বললো এইসব কথা! আয়নাতে ছায়া-তরুণীটির কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে রেখা। মাঝরাতে গলায় চাপ অনুভব করায় লাফ দিয়ে উঠে বসে রেখা। রোহান ওর গলা চেপে ধরেছে! তরুণীটি তাহলে ঠিকই বলেছিল! ও বিশ্বাস করেনি ওর কথা। মেয়েটির কথা বিশ্বাস না করে ভুল করেছে ভেবে ভয়ে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না রেখার। কোনোমতে বলে, অ্যাই কী-কী  করছো? কী হয়েছে তোমার?

রোহানের চোখেমুখে উগ্রতার ছাপ দেখতে পায় রেখা। কিছু বলে না। আবার তরুণীটির কথা মনে পড়ে। তরুণীটি বারণ করেছে কোনো কথা বলতে। বাঁকি রাত কেটে যায় নির্ঘুম। ভোরবেলা ঘুম ভেঙে ওর মোবাইল খুঁজে পায় না রেখা। মোবাইল গেল কোথায়? রাতে শোবার আগে টেবিলের ওপর রেখেছিল, এখন নেই!  রোহান কি তাহলে ওর মোবাইল লুকিয়ে রেখেছে? মনের মধ্যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খেতে থাকে। রোহানের মোবাইলও পায় না ধারে কাছে। রোহানকে জিজ্ঞেস করেও কোনোরকম উত্তর পায় না। মোবাইলের কথা জিজ্ঞেস করাতে যখন কোনো কথা বললো না রোহান তখন আয়নার তরুণীটির ছবি মনে পড়ে গেল রেখার। স্বাভাবিক আচরণ করলো সকলের সঙ্গে। যেন কিছুই হয়নি রাতে এভাবেই সকালের খাবার সাজিয়ে দিলো টেবিলে। নিজেও টেবিলে বসে পড়লো সকলের সঙ্গে। এরপর রোহান অফিসে বেরিয়ে গেল; হয়তো গেল হয়তো গেল না। সেসব নিয়ে ভাবছে না রেখা। নাস্তার টেবিল গুছিয়ে ঘরের অন্যান্য কাজ শেষ করে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সাজুগুঁজু করা তরুণী বউটির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। বাসা থেকে বের হয়ে যায় চুপিচুপি। তারপর রাস্তায় বেরিয়ে হাতের কাছে রিকশা পেয়ে উঠে পড়ে।

রীনাকে যেতে দিতে চায়নি কয়েকটা দিন আরও থেকে যেতে বলেছিল কিন্তু স্কুলে কাজ থাকায় চলে গিয়েছে রীনা। রেবা বিষণœ মনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছিল রীনার কথা হঠাৎ সদ্য বিবাহিত মেয়েকে একা, এক কাপড়ে বাড়িতে ঢুকতে দেখে অবাক হলো মা। নতুন বিয়ে হয়েছে। মাত্র গতকাল শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে ; এখন তো আসার কথা নয়, সামনে ঈদে আসবে বলেছিল যাওয়ার সময় কিন্তু আজ এলো! একা এসেছে কেন? জামাই সঙ্গে আসবে কিন্তু মেয়ে এসেছে একা আবার এক কাপড়ে। সন্দেহ দানা বাঁধে মায়ের মনে; কিছু কী অঘটন? মায়ের মনে অঘটনের সঙ্গে চিন্তা! মেয়েকে চেপে ধরে মা! কী হয়েছে। প্রথমে বলতে চায়নি রেখা কিন্তু মায়ের পীড়াপীড়িতে না বলে আর থাকতে পারলো না। সব কথা শুনে মায়ের মনে স্বস্তি, না তাঁর মেয়ে স্বশরীরে ফিরে এসেছে তাঁদের কাছে, লাশ হয়ে আসেনি। রেখাকে আর কখনও শ্বশুরবাড়ি যেতে দেয়নি মা।

আফরোজা অদিতি: কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৫টি। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার যার মধ্যে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, কবি কামিনী রায় সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় সাহিত্য পরিষদ, বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ও বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটির পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

ওমেন্স নিউজ/