অবশেষে ছাড়া পেলেন ভারতের আলোচিত সাংবাদিক জুবায়ের

সাংবাদিক জুবায়ের

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে আটক সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়েরকে জামিন দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। জামিন পাওয়ার পর বুধবার (২০ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ তিহার জেল থেকে তিনি ছাড়া পান। এরপর জেলের বাইরে অপেক্ষারত গাড়িতে উঠতে দেখা যায় তাকে। তিনি কোনও কথা বলেননি। এসময় আইনজীবী পরিবেষ্টিত এই সাংবাদিক কেবল বিজয় চিহ্ন ভি প্রদর্শন করেন। সূত্র- এনডিটিভি।

তার জামিন আদেশ প্রদানকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানায়-বর্তমান মামলায় সাংবাদিক জুবায়েরকে জেলে রাখার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ নেই। তাকে বিভিন্ন আদালতে নানান মামলায় অন্তহীন ঘোরানোর কোনো অর্থ হয় না। সর্বোচ্চ আদালতের মতে, এটা হলো দুষ্টচক্র।

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে যুবায়েরের বিরুদ্ধে যে সব মামলা করা হয়েছে, তা দিল্লিতে নিয়ে আসা হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের আবেদন ছিল, জুবায়েরের টুইট করা বন্ধ করতে হবে। আদালত সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে।

বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেছেন, 'একজন সাংবাদিককে কী করে বলা যাবে, আপনি আর লিখবেন না? এটা তো একজন আইনজীবীকে শুনানি না করতে বলার মতো বিষয়! তিনি আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। কিন্তু কী করে আগে থেকে ধরে নেয়া হবে একজন নাগরিক আইন ভাঙবেন? আমরা এরকম কোনো নির্দেশ দেব না।'

যুবায়েরকেগত মাসে চার বছর আগের একটি টুইটের জন্য গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তারপর উত্তরপ্রদেশে তার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর যুবায়ের যখন জামিনের আবেদন করেন, তখন উত্তরপ্রদেশে একের পর এক মামলা তার বিরুদ্ধে করা হতে থাকে। দিল্লিতে জামিন পেলেও তিনি মুক্তি পাননি। লখিমপুর খেরি, হাথরস, সীতাপুরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তিনি টুইট করে ঘৃণা ছড়িয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, দিল্লির মামলায় যুবায়ের জামিন পেয়েছিলেন। তারপরেও তিনি তার ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। এটাই সুপ্রিম কোর্টের মতে দুষ্টচক্র।

বুধবার রাত নয়টা নাগাদ তিহার জেল থেকে ছাড়া পান যুবায়ের। এসময় তাকে ঘিরে ছিলেন তার আইনজীবীরা। যুবায়ের শুধু দুই আঙুল তুলে ভি চিহ্ন দেখিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েন।

প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ জুবায়ের ভারতের নেতৃস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং (সত্যানুসন্ধান) ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহপ্রতিষ্ঠাতা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে সাংবাদিক জুবায়েরের অনুসারীর সংখ্যা পাঁচ লাখের (আধা মিলিয়ন) বেশি। তার এই প্রতিষ্ঠান ভুয়া খবর ও মিথ্যা দাবির অসারতা উদ্‌ঘাটনে বিরামহীনভাবে কাজ করে গেছে; যেসব খবর ও দাবির অধিকাংশের পেছনে আছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থী বিভিন্ন গ্রুপ। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রোষানলে ছিলেন তিনি।

সর্বশেষ বিজেপির নেতা নূপুর শর্মার টেলিভিশন বিতর্কের একটি ক্লিপ শেয়ার করেন জুবায়ের। যার জের ধরে গত মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। সম্ভবত তিনিই প্রথম সাংবাদিক, যিনি কোনো সংবাদ চ্যানেলে নূপুর শর্মার টেলিভিশন বিতর্কের একটি ক্লিপ শেয়ার করেন। ওই বিতর্কেই মহানবী (সা.) এর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন নূপুর।

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/