বাল্যবিবাহে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারীসহ নানা কারণে দেশে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাল্যবিবাহপ্রবণ দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ ।

বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে এখনকার মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি জানে। তাই জেনেশুনেও পরিবারগুলো কেন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের বাল্য বিবাহ নিরোধ কার্যক্রমের মাঠকর্মীরা মনে করেন, স্থানীয়ভাবে দরিদ্র পরিবারের কন্যাদের বিশেষ বৃত্তির ব্যাবস্থা করা এবং মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বাল্য বিবাহের বিদ্যমান প্রবনতা প্রসংগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোকতার হোসেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বাল্যবিবাহের সম্পর্ক রয়েছে। যেসব পরিবার জলবায়ু অভিবাসী, সেখানে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাইয়ে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

বাল্যবিবাহ দিতে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণমান্য ব্যক্তিরাও চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির মহাসচিব মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, অনলাইনে কীভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করা যায়, সে বিষয়ে নিকাহ নিবন্ধকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা বদলাতে কাজ করছে কেয়ার বাংলাদেশ। সংস্থাটির  ওমেন এমপাওয়ারমেন্টের অ্যাডভাইজার সৈয়দা আশরাফিজ জাহারিয়া প্রধান এ বষয়ে একটি  ধারণাপত্র উপস্থাপন করে বাল্যবিবাহ বন্ধে বেশি কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মধ্যে বিয়ের আগে পাত্রীর বয়স নিশ্চিত হতে দুই ধাপের যাচাইপ্রক্রিয়া চালু করা, বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন, কিশোরীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, স্কুল কর্তৃপক্ষ, নিকাহ নিবন্ধকদের প্রশিক্ষণ ও অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, স্থানীয়ভাবে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং মেয়েদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা অন্যতম।

বাল্য বিবাহ রোধে বর্তমানে ২৪টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। বিভাগীয় পর্যায় থেকে থেকে উপজেলা পর্যন্ত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি আছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সারা দেশে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার ক্লাব পরিচালনা করছে।

ওমেন্স নিউজ ডেস্ক/

লাইক, কমেন্টস, শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন