আমাদের বাংলা একাডেমি ও একুশে গ্রন্থমেলা

আফরোজা অদিতি

আফরোজা অদিতি

আমাদের বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ভাষা সংক্রান্ত একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবী উত্থাপন করেন। অবশ্য তিনি ১৯৪৭ সাল থেকেই এই বাংলা অর্থাৎ পূর্ব বাংলায় ফরাসি অ্যাকাডেমির মতো একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিলেন। এদিকে ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি কার্যক্রম এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে চালু করার আন্দোলন চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় বাঙালি ছাত্র-জনতার বাংলা ভাষার প্রতি অন্যরকম আবেগের সৃষ্টি হয় এবং এই আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ব বাংলার আপামর জনগণ যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। এবং অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে ১৯৫৫ সালের ০৩ ডিসেম্বর (১৭ অগ্রহায়ন, ১৩৬২ বাংলা সন) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এই একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে বাংলা একাডেমি সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন বর্ধমান হাউজে এই সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। প্রথমদিকে অবশ্য বাংলা একাডেমি অন্যান্য ভাষা থেকে দার্শনিক, কারিগরি, বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যকর্ম অনুবাদের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল  পরবর্তীতে এই একাডেমি দেশজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমকালীন শিল্প সাহিত্য সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির মানসিক বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা থেকেই বাংলা একাডেমির কর্মপরিধি প্রশস্ত হয়েছে। বাংলা একাডেমি বিভিন্ন ধরণের অভিধান প্রকাশ করা ছাড়াও নানান রকম বই প্রকাশ করছে ; তাছাড়াও তরুণ লেখকদের লেখালেখির ক্ষেত্র প্রশস্ত এবং লেখার মান উন্নতির জন্য বাংলা একাডেমি সচেষ্ট। আমাদের বাংলা একাডেমি বর্তমানে বিভিন্ন রকম গবেষণাকর্মের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড়ো কৃতিত্ব হলো একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ যা বাংলাদেশের জনগণ ছাড়াও দেশ-বিদেশের বইপ্রেমীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পরই ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারীতে, বর্তমান ‘মুক্তধারা’ (স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ) এর স্বত্তাধিকারী, চিত্তরঞ্জন সাহা, কলকাতায় বাংলাদেশের শরণার্থী লেখকদের  যে ৩২টি বই প্রকাশ করেছিলেন সেগুলো চটের ওপর সাজিয়ে  বাংলা একাডেমির মাঠে বই বিক্রির সুচনা করেন।  ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৪ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী, সপ্তাহব্যাপী প্রথম যে জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেই সম্মেলনে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বই বিশেষ কমিশনে বিক্রি করে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। সে-সময়  চিত্তরঞ্জন সাহাও মাটিতে বসে তার প্রকাশিত বই বিক্রি করেন। ১৯৭২, ১৯৭৪ সালে একাডেমি প্রাঙ্গনে বই বিক্রি হলেও ১৯৭৫ সালকেই বইমেলার শুরুর বছর বলে ধরা হয় কারণ ওই বছরই অমর একুশের অনুষ্ঠানের সময় বই বিক্রির জন্য মৌখিক অনুমোদন দেয় বাংলা একাডেমি। এরপর প্রতিবছর একাডেমি মাঠে বই বিক্রি চলতে থাকে।  এবং বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ১৯৭২ সালে শুরু হওয়া বই বিক্রির গোড়াপত্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়ে মেলার রূপ দেন  ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি; এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলা একাডেমিতে প্রথম  এই ক্ষুদ্র বইমেলাটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আয়োজন করার অগ্রগতি হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি ‘বাংলা একাডেমি  অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর থেকে প্রতি বছরই একাডেমি ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন করে এবং সেই সঙ্গে ‘অমর একুশে’ উদ্যাপন করে। বাংলা ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের স্মৃতিকে  অম্লান করে রাখতেই এই ‘বইমেলা’ এবং ‘অমর একুশে’ উদ্যাপিত হয় এবং বইমেলার নামকরণ করা হয়
‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।

১৯৭২ সালের সেই খোলা আকাশের নিচে চট বিছিয়ে বই  বিক্রি  আজ বিশাল বই বিক্রির হাটই শুধু নয়, এই বইমেলা আজ আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়। ছোটো সেই বইমেলা ডালপালা বিস্তৃত করে বাংলা একাডেমির বাইরেও চলে এসে হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রাণের মেলা। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’, এখন চৈত্র সংক্রান্তি, নববর্ষ, নবান্ন, পৌষ-ফাগুনের মেলার মতো বাঙালি সংস্কৃতির একটি সফল অঙ্গ হয়ে উঠেছে। এই মেলা, এক বাঙালির হৃদয়ের সঙ্গে অন্য বাঙালির  হৃদয়ের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। ভাষাযুদ্ধ, স্বাধীনতাযুদ্ধের মতো  পবিত্র এই গ্রন্থমেলা। কারণ কোন না কোনভাবে এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বা গেছে আমাদের ভাষাযুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস। এই গ্রন্থমেলার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। পুরো ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে চলে বইমেলা এবং বই সম্পর্কিত নানা অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনী। এই সময় বাংলা একাডেমির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় ভাষাযুদ্ধ, স্বাধীনতা যুদ্ধ ভিত্তিক আর সমাজসংস্কার চেতনামূলক নানারকম অনুষ্ঠান। ২১শে ফেব্রুয়ারীর  ভোরে প্রভাতফেরীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এই মেলা আরও সজীব সতেজ হয়ে ওঠে তা শুধু বাঙালি নয় বিদেশীরাও অনুভব করে। বাঙালির মেধা-মননের বিশেষ চর্চাও চলে এ মেলাকে ঘিরেই।    

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ আমাদের ঐতিহ্যবাহী বইমেলা। অধিবর্ষ ফেব্রুয়ারিতেই আসে বলেই চার বছর পরপর এই ফেব্রুয়ারি মাস
২৯ দিনে হয় তাই প্রতি চার বছর পরপর ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ ২৮ দিন নয় ২৯ দিন হয়। প্রতিবছর এই মেলাকে ঘিরে প্রকাশিত হয় নানা রকমের বই। শুধু বই প্রকাশই নয়, মেলাকে ঘিরেই প্রাণ পায় জাতীয় কবিতা উৎসব এবং অন্যান্য সংগঠনের গল্প-কবিতা পাঠের আসর। অন্য রকম এক ভালো লাগা, এক ভালোবাসায় নানাবর্ণের আঁচল উড়িয়ে আসে বসন্ত। কোকিলের কুহু কুহু সুরের সঙ্গে শুরু হয় বসন্ত উৎসব। পাঠক, এই বসন্তদিনে ভালোবেসে বই উপহার দেয় তাঁদেও নিজ নিজ স্বজনপ্রিয়^জনকে। শুধু ১৪ ফেব্রুয়ারি একদিন নয়, এই বইমেলাকে ঘিরেই প্রতিদিন থাকে ভালোবাসার দিন। ভালোবাসার দিন এইজন্য যে, একমাস ব্যাপী এই মেলাকে কেন্দ্র করে চলে রক্তদান, কারও চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ, চলে অন্য কোন দূর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য কাপড়, পাঠাগার ও পথশিশুদের জন্য বই, অর্থ কিংবা অন্যান্য সামগ্রী  সংগ্রহ। এসব কাজ একজন মানুষকে অন্য একজনের প্রতি ভালোবাসতেই শেখায়, শেখায়  আত্মত্যাগ। মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগ তার জন্য এই বইমেলার অবদান বেশি ছাড়া কম নয়। এই বইমেলা উপলক্ষ করেই তরুণেরা কিছুটা সময়ের জন্য একত্রিত হচ্ছে। এই একমাস তারা ‘ভালো’র সাহচর্যে থাকছে, ‘ভালো’ চিন্তা করছে, ‘ভালো’ কাজ করছে। এই বইমেলার জন্যই অনেকের বই পড়ার অভ্যাস টিকে আছে। অনেকেই লেখার প্রেরণা পাচ্ছে। আবার অনেকের ব্যবসাও হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে এই মেলা ঘিরে চলছে কারও কারও অন-লাইন প্রকাশনা। প্রকাশিত বইয়ের কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে বইমেলা ভিত্তিক ওয়েবসাইট। দেশ থেকে বিদেশ ছড়িয়ে পড়ছে বাঙালির ঋদ্ধ সংস্কৃতি।       

প্রতিবছর  বইমেলাকে ঘিরে বাড়ছে প্রকাশক, বাড়ছে লেখক, বাড়ছে বইমেলার স্টল সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন বই আসছে। তাৎক্ষণিভাবে বইয়ের  প্রচার করছে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র এবং বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইট। নজরুল মঞ্চে চলছে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের সমারোহ। সরকারী, বে-সরকারী টিভি চ্যানেলগুলো বই এবং লেখক, প্রকাশক, পাঠকদের কথা প্রচার করছে। বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক প্রচার করছে বই সম্পর্কিত নানা তত্ত্ব ও তথ্য। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’য় শুধু বই-ই বিক্রি হয় না, লেখক-পাঠকের মিলন সম্মেলনই হয় না, এই মেলাকে ঘিরে সারামাস ব্যাপী থাকে বাংলা একাডেমীর মুলমঞ্চে নানা আয়োজন। একুশে ফেব্রুয়ারীর সকালে নবীন-প্রবীণ কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ ছাড়াও  থাকে গান, নৃত্যনাট্য। শিশুদের জন্য প্রতিযোগিতা মূলক আয়োজন, ভাষা আন্দোলন এবং ভাষার গতি, প্রকৃতিসহ নানা বিষয়ের আলোচনা। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’তেই দেওয়া হয় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এই মেলা খুশির মেলা, আনন্দের মেলা। মেলাতে এলে মানুষের আনন্দময় মুখ দেখা যায়। সে আনন্দময় মুখ একজন লেখকের, একজন পাঠকের, একজন প্রকাশকের। সে মুখ একজন বাবা, একজন মা, একজন শিশুর। এই আনন্দময় রূপ আমার বাংলার মুখ।

আগেই বলেছি এই বইমেলা লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মিলন মেলা। এই মেলাতেই লেখক পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে ওঠে। আর প্রকাশক তার ব্যবসা বৃদ্ধি করেন। বইমেলাকে ঘিরে যেমন থাকে লেখক, প্রকাশকদের আশা, আকাঙ্খা, তেমনি থাকে পাঠকেরও । এই মেলায় পাঠক তার ইচ্ছামতো বই খুঁজে পেতে পারেন। পাঠক, তার পছন্দের লেখকের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। কিন্তু দুঃখ এই সেতুবন্ধকে অনেকেই ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে দেখছেন।  প্রকাশক বেড়েছে কিন্তু তাঁদের অনেকেই ভালো মানের বই বের করতে পারছেন না। আবার কোন কোন  প্রকাশক বই প্রকাশ করছেন কিন্তু তার বিপননের ভার গ্রহণ করছেন না, নিচ্ছেন না প্রচারের ভারও। এই অবস্থায় অনেক লেখককেই ফেরিওয়ালা হতে হচ্ছে। আবার অনেক প্রকাশকের সম্পাদনা পরিষদ নেই। নেই ভালো প্রুফ-রিডার।  প্রকাশকদের সম্পাদনা পরিষদ থাকা জরুরি। সম্পাদনা পরিষদ আর ভালো প্রুফ-রিডার না থাকলে কখনও মান সম্পন্ন বই পাঠকের হাতে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ যে লিখে, শতবার কাটাকুটি করে শতবার লিখলেও সেই লেখাটা পাঠকের কাছে সমাদর  নাও পেতে পারে। কারণ একজন লেখকের লেখা তাঁর কাছে তাঁর জীবনের মতোই মূল্যবান এজন্য একটি লেখা পাঠকের দৃষ্টিতে একবার হলেও দেখিয়ে নেওয়া লেখক-প্রকাশকের প্রয়োজন। যা প্রকাশকদেরই করা প্রয়োজন; অনেক ক্ষেত্রে সেটি হয় না, হচ্ছে না।  আবার অনেক প্রকাশক নতুন লেখকের দায়িত্ব নিতে চান না। তাঁরা, যে লেখকের বইয়ের কাটতি বেশী সে বই ছাপতেই বেশী আগ্রহী। অবশ্য এতে দোষের কিছু নাই কিন্তু সেই বইয়ের ভেতর কী  আছে এবং পাঠক কতোটা উপকৃত হবে সেদিকে তারা নজর দিচ্ছেন না। ফলে অনেক ভালো বই পাঠকের হাতে যাচ্ছে না, পাঠকের অজানাই থেকে যাচ্ছে সে-সব লেখা। অন্যদিক দিয়ে বলতে গেলে প্রকাশকরাও মুস্কিলে পড়েন কারণ বইমেলা আসলেই বই সম্পর্কিত সব পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়।

ছাপাখানা  আর বইয়ের ইতিহাস অনেক পুরানো; আমাদের বইমেলার ইতিহাস খুব পুরানো না হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের মতো পুরানো।  আমরা জানি ভাষা আন্দোলনের বয়স সত্তর এবং আমাদের বইমেলার বয়স পঞ্চাশ। এই পঞ্চাশ বছরে বইমেলার পরিসর বেড়েছে, বেড়েছে গতি। ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র কারণে বর্তমানে বছর জুড়েই দেশের কোথাও না কোথাও থাকছে বিভিন্ন নামের বইমেলা। প্রকাশক বইয়ের স্টল দিচ্ছেন, পাঠকও সেখানে ভীড় করছেন, বই কিনছেন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন-লাইন পত্রিকা চলছে সেখানে লিখছেন অনেকে, অনেকে লিখছেন ব্লগে তবু বের হচ্ছে বই। মানুষ বই কিনছে, পড়ছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন পাঠাগার। সবই সম্ভব হচ্ছে আমাদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র গুণে।

আমাদের বইমেলাকে কেন্দ্র করে অনেক সময় অনেক বাধা এসেছে আবার কেটেও গেছে। তাই আশা করা যায়, শত বাধা- বিপত্তি পেরিয়ে আমাদের এই প্রাণের মেলা টিকে থাকবে, হবে অক্ষয়,উজ্জ্বল। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ, শতাব্দির পর শতাব্দি এই মেলা মানুষের হৃদয়ে আসন গেড়ে থাকবে। আরও প্রাণময় আরও বিস্তৃত হবে।  অন-লাইন পত্রিকা, অন-লাইন পাঠাগার বাড়বে, বাড়বে পাঠক তবুও আমাদের ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ থাকবে, থাকবে ছাপার হরফে বই,থাকবেই এবং বইমেলার বিস্তৃতি কমবে না বরং বাড়বে। কারণ এই বইমেলা বাঙালির ঐতিহ্যের মেলা। আমাদের বাংলা একাডেমি যতোদিন আছে ততোদিনই আমাদের গ্রন্থমেলা থাকবে, থাকবে আমাদের বইয়ের প্রকাশনা। দিনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে লেখক বাড়বে প্রকাশক বাড়বে আমাদের পাঠক। (তথ্য: অনলাইন ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা)

আফরোজা অদিতি: কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫৫টি। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার যার মধ্যে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, কবি কামিনী রায় সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় সাহিত্য পরিষদ, বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ও বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটির পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

ওমেন্স নিউজ সাহিত্য/