সামসুন্নাহার ফারুকের দুটি কবিতা

সামসুন্নাহার ফারুক

অদ্ভুত মায়াজালে

তারপর একদিন আবার হবে দেখা
কথাদের খইফুল ফুটবে মুখে মুখে
থাকবেনা রাত্রিদিন বিষন্ন মলিন
সব নীরবতা ভেঙ্গে
অলৌকিক আলোকে চলবে মাখামাখি

করতলে সূর্যটা সোনালী সকালে
বিলিয়ে  দেবে রাশি রাশি ডিম কুসুম প্রভা
শরীরের আনাচে কানাচে
গাছের মাথায়
নবান্নের শস্যবন্তী উঠোনে
ঠোঁটের ডগায়

আমরা সেরে নেব স্নান
মেখে নেব ঝাঁক ঝাঁক  নরম রোদ্দুর
হাতে হাত রেখে হেটে যাব পৃথিবীর
প্রান্ত সীমানায়

ভেবোনা —–
সময়টা কেটে যাবে অদ্ভুত মায়াজালে
সৃষ্টিশীল মনোলোভা কবিতার কালে।

মেয়েদের ফুল কুড়াতে নেই

নিশ্চল পড়েছিল মেয়েটি
কাদা – মাটি মেখে
শেফালীরা ঢেকে দিয়েছিল
ছোট্ট শরীরটা
তবে কি ফুল কুড়াতেই মেয়ে
ভুল করেছিল

মেয়েদের এখন কৈশোর-তারুণ্য
থাকতে নেই
স্বাধীনতার শব্দগুলো উচ্চারণ
করতে নেই
বিশুদ্ধ অক্সিজেনে শ্বাস নিতে নেই
সমাজের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট গন্ডীর
বাইরে যেতে নেই

ঈশ্বর কানে তালা লাগিয়ে
বসে আছেন কিনা জানিনা
তবে আমি কিন্তু আর এতসব
নিতে পারছি না

"নিরাপত্তা "নামক শব্দটি অভিধান থেকে
তুলে দিতে চাই
কেমন হয় বলুন তো ।

কবি পরিচিতি:  সামসুন্নাহার ফারুক লিখছেন অনেক দিন ধরেই, নানা বিষেয়ে। সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, অর্থনীতিতে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২টি। কবিতার জন্য প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা ৬টি।

ওমেন্স নিউজ/