ভালোবাসা থাক সকলের জন্য

আফরোজা অদিতি

আফরোজা অদিতি

এই সময়ে ১৪ ফেব্রুয়ারেিয ভালোবাসা দিবস উদ্যাপিত হয় প্রাচীনকালে তা ছিল না। প্রাচীনকালে মানুষের বিশ্বাস ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি পাখিদের বিয়ের দিন। পাখিরা বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিম পাড়ে; ঐ ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। কারও কারও বিশ্বাস ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় মিলন ঋতু। একটি পাখি অন্য একটি পাখির সঙ্গী হয়। বর্তমানে পাখিদের দেখাদেখি মানুষও পাখি হয়ে গেছে অর্থাৎ সঙ্গী নির্বাচনে তৎপর হয়েছে। আমরা জানি, ৪৯৬ খৃষ্টাব্দে প্রথম ভ্যালেটাইন উৎসব পালিত হয়। বর্তমান সময়ে বিশ^ব্যাপী এই দিবসটির কদর বা পালন করা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশ, বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে প্রথম এই দিবসটি পালন করা শুরু হয় এবং বর্তমানে এই দিবসটি খুব জোরেসোরে অর্থাৎ প্রায় সকলেই এই দিবসটি পালন করতে আগ্রহী। ভালোবাসা দিবস পালন করার আয়োজন হিসেবে বিভিন্ন ফুলের দোকান, ফ্যাসন হাউস, উপহারের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে সাজানো দোকান ছাড়াও খাবার-দাবারের দোকানগুলি তাদের বেচাবিক্রি বাড়ানোর জন্য নানা রকমের অফার চালু করে। টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলগুলিাতে ‘ভালোবাসা দিবসের গান’, ‘ভালোবাসার দিবসের নাটক’ প্রচার করে থাকে। একে অপরকে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কার্ড বা যে কোনো উপহার দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করে থাকে। ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসা শুধু বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বর্তমানে পরিবারের মধ্যেও এই দিনটি পালন করার চলন এসেছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে উপহার তো পরিবারের কর্তা যিনি থাকেন তিনি তাঁর সাধ্যমতো পরিবারের সকলকে নিয়ে আনন্দ-আয়োজনের ব্যবস্থাও করে থাকেন।

ভালোলাগা এবং ভালোবাসার প্রবৃত্তি মানুষের জন্মগত। জন্ম হওয়ার আগে থেকেই একজন মানুষ ভালোবাসা পেয়ে থাকে। মানব জঠরে থাকাকালীনই যে পরিবারের সবার ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে থাকে এবং জন্মের পর তো পরিবারের ভালোবাসাতেই বেড়ে ওঠে সে। পরিবারের  অপর নাম ভালোবাসার বন্ধন। ভালোবাসার ইতিহাস যাই হোক আমরা ভালোবাসা বলতে বুঝি সুস্থ সুন্দর গতিশীল একটি মানবিক ধারা। পাশ্চাত্যে কবে কখন কী ঘটেছিল তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ভালো হয় আমরা আমাদের পরিচিত দেশ-নদী-মানুষ নিয়ে মাথা ঘামাই। আমরা দেশকে ভালোবাসি, নদীকে ভালোবাসি। দেশের আকাশ-বাতাস যেন দুষিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখি। নদীজল যেন দুষিত-আবর্জনাময় না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেই। আমার দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে সেদিকে দৃষ্টি রাখি। আমরা শুধু নিজে নিজের নয় আমারা একে অপরের জন্য। আমাদের ভালোবাসা হবে সুস্থ-সুন্দর-পবিত্র।   

‘ভালোবাসা’ অতি পবিত্র একটি শব্দ। আমাদের জীবনে প্রতিটা দিন হয়ে উঠুক ভালোবাসাময়! ভালোবাসা দিবসের নামে অনৈতিক কোনো কাজ করা উচিত নয়। অশ্লীলতা-নোংরামী করা ভালোবাসা দিবসের উদ্দেশ্য নয়। ভালোবাসা শুধু একদিনের নয়, ভালোবাসা প্রতিদিনের; এই ভালোবাসা থাক আমাদের মায়ের জন্য, বাবার জন্য, ভালোবাসা থাক আমার প্রিয় ভাই-বোন-বন্ধুদের জন্য। ভালোবাসা থাক আমাদের পাড়া-পড়শি-প্রতিবেশিদের জন্য। ভালোবাসা আর প্রেম এক নয়; যখন পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয় একজন পুরুষ ও একজন নারী তখন তাদের মধ্যে ভালোবাসার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রেম। তাছাড়া সম্পর্কভেদে প্রতিটি ভালোবাসারই পৃথক পৃথক অর্থ আছে। যেমন :
১.বাবা-মা-শিক্ষক-গুরুজনদের ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সম্মান।
২.স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রেম।
৩.সন্তানের ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্নেহ-বাৎসল্য।
৪.ভাই-বন্ধুদের ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সৌহার্দ। তাই সকলের সঙ্গে ভালোবাসাকে এক  করে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয় বা ঠিক হবে না।

ভালেনটাইন ডে নিয়ে অনেক গল্প ইতিহাস কথকতা প্রচলিত আছে সেদিকে না গিয়ে আমরা বাঙালি আমাদের ভালোবাসা বাংলার ভালোবাসা; বাঙালির ভালোবাসা। আমরা বাঙালি সেহেতু আমাদের ভালোবাসা বিদেশ নয় স্বদেশের মতো হতে হবে। আমরা দেশ ভালোবাসি, ভালোবাসি পত্র-পুষ্প, আকাশ-তটিনী-নিরোধী। ভালোবাসি প্রকৃতি। সেই সঙ্গে ভালোবাসি বন্ধু-প্রিয়জন-স্বজন-পরিজন। আমাদের কাছে শুধু একটি দিন নয় প্রতিটি দিনই ভালোবাসাময় হয়ে উঠুক এই কামনায় শেষ করছি।

ওমেন্স নিউজ সাহিত্য/